অপহরণ ও চাঁদাবাজি: যুবশক্তি নেতাসহ ৫ জন কারাগারে

দিনাজপুর
থানার সামনে বিক্ষোভ
এখন জনপদে
অপরাধ
0

দিনাজপুরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ (মঙ্গলবার, ৭ জুলাই) সকালে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এ আদেশ দেন।

এদিকে, আরিফ মুনকে আটকের পর দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় জড়ো হয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন এনসিপি ও যুবশক্তির নেতাকর্মীরা। এসময় থানার ভেতরে প্রবেশ করে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।

কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন— হাসিন ইসরাক মিম, আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম এবং থানা থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আটক আরও দুই ব্যক্তি।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৫ জুলাই) রাতে দিনাজপুর সদর উপজেলার খোশালপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে শহরের গোপালগঞ্জ পাঁচমাইল এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় একদল যুবক। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ।

দীর্ঘ অভিযানের পর গতকাল (সোমবার, ৬ জুলাই) বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকা থেকে অপহৃত আব্দুস সামাদকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে অপহরণ ও চাঁদাবাজি চক্রের মূলহোতা আরিফ মুনসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন:

আটকদের কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসার পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুবশক্তি নেতা আরিফ মুনের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপি ও যুবশক্তির কয়েকশো নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে থানা প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হন। তারা মুনের মুক্তির দাবিতে চারপাশ থেকে থানা ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন।

পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে ডিউটি অফিসার প্রথমে থানার প্রধান কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেন। কিন্তু উত্তেজিত নেতাকর্মীরা গেটে এসে প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে একপর্যায়ে গেটটি খুলে যায়। এসময় কিছু নেতাকর্মী হুড়মুড় করে থানার ভেতরে প্রবেশ করে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তার স্বার্থে মূল আসামি আরিফ মুনকে দ্রুত থানার ভেতরের সুরক্ষিত লকআপে আটকে রাখা হয়।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) জানান, অভিযুক্তদের আটকের পর তাদের সমর্থকরা থানায় এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। তবে পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্য ও কঠোরতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে সেখান থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, আজ সকালে পুলিশি পাহারার মধ্য দিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়। অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা নিয়মিত মামলায় আদালত তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এসএইচ