বাসে যাত্রী তুলে গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে করা হয় জিম্মি। তারপর মারধর ও অস্ত্রের মুখে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। অবশেষে বাসের যাত্রী এক ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তাকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় র্যাবের হাতে ধরা পড়েছে চক্রের এক সদস্য বাসের মালিক জাবেদ ইকবাল বাদল ওরফে বিহারী বাদল। যার বিরুদ্ধে ১০টিরও বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। অপহরণে ব্যবহৃত বাস জব্দ এবং উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তাকে।
স্বাভাবিক একটি কাজের দিন শেষে প্রিয়জনের কাছে ফেরার তাগিদ ছিল সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ইউনিট ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের। ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে উঠেছিলেন বকশীগঞ্জ-ঢাকা রুটের ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে। বাসটি কিছুদূর যাওয়ার পরই বুঝতে পারেন, অন্য যাত্রীদের মতো তিনিও অপহরণকারীদের হাতে জিম্মি। মোবাইল, টাকা রেখে অন্য যাত্রীদের রাস্তায় নামিয়ে দিলেও গলায় ছুরি ধরে আটকে রাখা হয় তাকে।
পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণে তার ওপর চলে শারীরিক নির্যাতন। অপহরণকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ছোট ভাইসহ সহকর্মীকে ফোন দিয়ে বিকাশে আনেন লক্ষাধিক টাকা। হাতিয়ে নেয়া হয় বিভিন্ন ব্যাংকের তিনটি ডেবিট কার্ড। এরই মধ্যে আব্দুল্লাহপুরে ঘুরে বাসটি ফের ময়মনসিংহের দিকে আসতে শুরু করে। বাকিটা শোনা যাক ভিকটিমের বয়ানেই।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাকে বারবার ওরা হুমকি দিচ্ছিল যে আমাকে মিনিমাম পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। পাঁচ লাখ টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে বারবার কয়েকবার টর্চারিং করছে এবং পকেট থেকে তারা চাইছিল যে আমার কিছু বের করে আমাকে মারবে এবং গলায় ছুরি ধরছে যে টাকা দিতেই হবে।’
আরও পড়ুন:
বিপদ আঁচ করতে পেরে ভুক্তভোগীর ছোট ভাই বিষয়টি র্যাবকে জানায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহ নগরীর চোরখাই ও দিঘারকান্দা বাইপাস মোড়ে দু’টি চেকপোস্ট বসিয়ে মাঝরাতে বাসটিকে আটকাতে সমর্থ হয় র্যাব। এসময় চক্রের ছয় থেকে সাতজন সদস্য পালিয়ে গেলেও বিহারী বাদলকে আটক করে র্যাব। উদ্ধার করা হয় অপহৃত জাহাঙ্গীর আলমকে। বাসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় দেশিয় অস্ত্র ও কয়েকটি ডেবিট কার্ড।
র্যাব জানায়, এ বাস ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত চক্রটি। চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, ‘একে ট্র্যাকিং করি। দেখলাম যে ভালুকা হয়ে ত্রিশাল হয়ে যখন আমরা ত্রিশালেও আমাদের একটা পার্টি অ্যাডভান্স পার্টি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, ওদের ওভারটেক করে চলে আসছে। অলমোস্ট আমাদের পার্টির গাড়ির ওপর দিয়ে গাড়ি উঠায় দিয়ে চলে আসছিল। তো এমন সময় এখানে গাড়িটা রাখা আর আমাদের টিম যখন এসে তাদের চারিদিক দিয়ে ঘিরে ধরে, তখন তারা গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। ভিকটিম বাসের মধ্যেই ছিল।’
আরও পড়ুন:
এদিকে যাত্রীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ে জড়িত চক্রের সব সদস্যকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘গলায় চাকু ধইরা উনাকে খুব মারধোর করছে। এটা খুব নিন্দাজনক। তদন্ত করে এর পেছনে আর কারা কারা জড়িত, এদের সমস্ত সিন্ডিকেট ভেঙে এদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।’





