আজ (শনিবার, ৩ অক্টোবর) বিজয়পুর সীমান্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রেস নোটে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী বলেন, ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সব ধরনের চোরাচালান রোধ, নারী-শিশু পাচার এবং যেকোনো সীমান্তসংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। গত ৯ মাসে আমরা আনুমানিক ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের দ্রব্যসামগ্রী জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে মদ, বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, পোশাকসামগ্রী, খাবার সামগ্রী, গবাদি পশু এবং অন্যান্য জিনিসপত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমরা এই মালামাল জব্দ করেছি। পাশাপাশি গত ৫ মাসে মোট ১৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুশইন এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত চোরাচালান বন্ধে আমাদের কার্যক্রম সব সময় অব্যাহত ছিলো এবং থাকবে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে অন্যরাও যেন এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে নিরুৎসাহিত হয়, সে প্রত্যাশা করছি।’
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, এস্কাফ সিরাপ, বিয়ার, গাঁজা, বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী, কসমেটিকস, পোশাক সামগ্রী, গবাদি পশু, কয়লা, চিনি, ওষুধ, জিরা, সুপারি, রসুন, বিভিন্ন প্রকার মাছ ও মাছের পোনা।
আরও পড়ুন:
জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ১৯০ বোতল ভারতীয় মদ, ২৪০ বোতল ফেনসিডিল, ৪২৮ পিস ইয়াবা, ৬০ ক্যান বিয়ার, ৬৫ বোতল এস্কাফ সিরাপ, ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৮৪ পিস অন্যান্য মাদকের ট্যাবলেট। এসব ঘটনায় মোট ৯ জনকে আটক করা হয়।
এছাড়াও সোমেশ্বরী নদীর ভবানীপুর ও বিজয়পুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত ৯ মাসে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের কয়লা এবং ৭৩ লাখ ২৬ হাজার ১৩০ টাকা মূল্যের অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করেছে বিজিবি।
এদিকে গত ৯ মাসে নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) জব্দকৃত মোট মালামালের মধ্যে ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ৮২০ টাকার মাদক এবং ১১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৪ টাকার অন্যান্য চোরাচালানি পণ্যসহ সর্বমোট ১২ কোটি ২০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ টাকার মালামাল আটক করেছে। এসব অভিযানে সর্বমোট ১৮ জন আসামিকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চোরাচালান রোধে বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ টহল জোরদার, স্থানীয়দের সচেতন করতে ভবানীপুরসহ সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতামূলক সভা, চোরাকারবারীদের সম্ভাব্য চলাচল এলাকাগুলোতে টহল বৃদ্ধি এবং নদীপথের চোরাচালান নজরদারির জন্য নদীর দুই পাড়ে সিসি ক্যামেরা ও হ্যালোজেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিজয়পুর ও ভবানীপুর এলাকায় উঠান বৈঠক ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন সাধারণ মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে নিরুৎসাহিত হয়।





 as it orbits its host star-320x167.webp)