১২ বছর পর উদ্বোধন হচ্ছে চট্টগ্রামের চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন

চট্টগ্রাম
চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন
অর্থনীতি
0

দীর্ঘ ১২ বছর স্থবির থাকার পর কাল উদ্বোধন হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। ৮০০ একর জায়গায়, ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠবে এই শিল্পাঞ্চল। যেখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় এক লাখ মানুষের। ইতোমধ্যে এ শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি অবকাঠামো, জ্বালানি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

র্কণফূলি নদীর দক্ষিন পাড়ের এসব ভূমি এখনও কৃষি জমি বা পাহাড়ি অঞ্চল। এখানকার ৮০০ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল করার সমঝোতা চুক্তি হয় ২০১৪ সালে। নানা কারণে ১২ বছর স্থবির থাকার পর জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর নতুন গতি পায় এ প্রকল্প।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল সড়কের পর পুরো জায়গা খালি পড়ে আছে। সোমবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ, পরিষ্কার পরচ্ছিন্নতার কাজ করছে শ্রমিকরা। সরকার বলছে, আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন। কর্মসংস্থান হবে ১ লাখ মানুষের। এরই মধ্যে ৩০ টি চাইনিজ প্রতিষ্ঠান ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেজাকে। টেক্সটাইল, পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে বিনিয়োগ করতে চায় চীন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমাদের দেশের তরফ থেকে কিন্তু আহ্বান জানানো হয়েছিল ইনভেস্টমেন্টের জন্য। এবং চট্টগ্রাম এবং চায়না কিন্তু সেই ইনভেস্টমেন্ট করার জন্য তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এবং একটি ব্যাপক ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে তারা আমাদের এ চট্টগ্রামে যেটি বললেন একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন হবে, সেখানে তারা ইনভেস্টমেন্ট করবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পর বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অনেক বেশি কঠিন। জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ, বন্দর সুবিধা এবং অর্থায়ন—সব মিলিয়ে অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর পিছিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

চবি ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ওনারশিপ এডভান্টেজ এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের ফর্মটা একান্তই হচ্ছে যারা ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট করতেছেন তাদের ব্যাপার। কিন্তু লোকেশন এডভান্টেজ যেটা আছে, এটা এনসিওর করার দায়িত্ব হচ্ছে হোস্ট কান্ট্রির। ইকোনমিক জোনে যদি আমি ইউটিলিটিগুলো যদি প্রোভাইড করতে না পারি, এটা অপারেশনে অর্থাৎ কমিশনিং কতটুক হবে এবং প্রোডাক্টিভিটি কেমন হবে এটা কিন্তু বিশাল প্রশ্নের বিষয়।’

ব্যবসায়ি নেতারা বলছেন, বর্তমানে পোশাক উৎপাদনের কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি করতে হয়। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে এসব পণ্য সরবরাহ করে তাহলে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে। তবে কী ধরনের কারখানা স্থাপন হচ্ছে তা সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে সরকারকে, যাতে দেশিয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়

বিজিএমইএ পরিচালক মো আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমরা যে সমস্ত পণ্য চাই বা চায়না থেকে ইমপোর্ট করে র মেটেরিয়ালস হিসেবে ইউজ করছি, সেগুলি যদি ওরা এখানে উৎপাদন করে সেটা একটা আকর্ষণীয় বিনিয়োগ হবে। ওরা যদি ফেব্রিক বানায়, ওরা যদি এক্সেসরিজ বানায়, ওরা যদি বিভিন্ন আমাদের গার্মেন্টসের বিভিন্ন ধরনের কম্পোনেন্টগুলি বানায়—এগুলি এখানে বানালে আমাদের সহজ ঘরের ঘরের কাছে পাওয়া যাবে, লিড টাইমটা আমাদের সেভ হবে, আমাদের এক্সপোর্ট বুস্ট আপ হবে।’

বেজা জানায়, চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ চীনা কোম্পানিগুলো বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করে। সিইআইজেডের অগ্রগতি চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিবে বলে মনে করেন তারা।

এফএস