কর্ণফুলী মোহনার অদূরে গুপ্তবাঁকের আগেই নদীর ডান তীরে লালদিয়ার চর। গেলো বছর নভেম্বরে এই চরে আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও ৩০ বছরের জন্য পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে চুক্তি সই করে বিশ্বের র্শীষ বন্দর অপারেটর ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস।
এর আগে, সৌদি আরবের রেড সি গেইটওয়ে ইন্টারন্যাশনাল প্রথম বিদেশি অপারেটর হিসেবে পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্ত হলেও সেটির অবকাঠামো নির্মাণ করে বন্দর।
লালদিয়া হবে বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত প্রথম জ্বালানি সাশ্রয়ী, স্বয়ংক্রিয় গ্রিন পোর্ট। ডিজেলের পরিবর্তে এখানে ব্যবহার হবে সৌর বিদ্যুৎ বা হাইব্রিড সিস্টেম। ৩০ আগস্ট টার্মিনালটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। ৬ হাজার ৭শ' কোটি টাকা বিনিয়োগে ৪৯ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হবে তিনটি জেটি ও অন্যান্য অবকাঠামো।
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ২ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারে। নদীর মুখে অবস্থান ও নাব্যতা বেশি থাকায় এই টার্মিনালে প্রায় ১১ মিটার গভীরতার বড় জাহাজ ৫ থেকে সাড়ে হাজার টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে ভিড়তে পারবে অনায়াসে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘শুরু হলে তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে বলে আমরা আশা করছি। এই টার্মিনালের অধীনে মোট তিনটি জেটি থাকবে, যেখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্রেইন এবং অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জাহাজে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করা হবে।’
এই টার্মিনালে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বয়ক্রিয়ভাবে চলবে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামার কাজ। এতে কমবে জাহাজের গড় অবস্থানকাল। পণ্য খালাস ও ডেলিভারি হবে দ্রুত।
সেইসঙ্গে নতুন টার্মিনাল চালু হলে বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জটই শুধু কমবে না, দেশি-বিদেশি অপারেটরের মধ্যে প্রতিযোগিতায় সেবার মান বাড়বে— এমন প্রত্যাশা বন্দর ব্যবহারকারীদের।
এমএসসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিকস আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ইকোনমিতে নিশ্চিতভাবেই অনেক বড় ধরনের ভ্যালু অ্যাড করবে। কারণ এটা শুধু টার্মিনালই হবে না, এর সঙ্গে টেকনোলজিও আমাদের দেশে আসবে, নতুন প্রসিজিয়ার আমাদের মধ্যে আসবে। এর কারণে আমাদের এখানে হিউম্যান রিসোর্সের যে একটা ডেভেলপমেন্ট, সেটা হবে, এমপ্লয়মেন্ট তৈরি হবে।’
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমাদের সময় এবং খরচের যে বিষয়টা আছে, “টার্ম অ্যান্ড টাইম”-এর যে বিষয়টা আছে, সেগুলো অনেক কমে আসবে। এতে আমাদের ব্যবসায় অনেক সাশ্রয়ী হবে।’
তবে লালদিয়ার অবস্থান কণর্ফুলি নদীর মোহনায় হওয়ায় বন্দর চ্যানেলে পলি জমে নাব্যতা কমা কিংবা জাহাজ চলাচল যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেটি নিশ্চিত করার আহ্বান শিপিং এজেন্টদের।
আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এখানে বন্দর কর্তৃপক্ষও একটু ভালোভাবে অ্যাসেস করে দেখবে যে, এটার কারণে কোনো ধরনের সমস্যা হয় কি না। রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো যদি ঠিকভাবে মনিটর করে টার্মিনালটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করে, তাহলে আশা করি সেটা আমাদের জন্য একটা ভালো দিক বয়ে আনবে।’
২০৩০ সালের মধ্যে এই টার্মিনাল চালু হওয়ার কথা রয়েছে। বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করবে আট লাখ একক। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি একক কনটেইনার উঠানামায় বন্দর মাশুল পাবে ২১ ডলার। হ্যান্ডলিং বেড়ে নয় লাখ হলে মাশুল পাবে ২৩ ডলার।





