চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কন্টেইনার পণ্যের নিলাম; পণ্য ডেলিভারিতে হয়রানির অভিযোগ বিডারদের

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস
অর্থনীতি
0

বন্দরে কন্টেইনার জট কমানো ও অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি বাড়াতে একযোগে ৪৪২ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তুলেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। প্রথমবারের মতো নিলামে তোলা হচ্ছে খালি কনটেইনারও। নিলাম কার্যক্রমের গতি আসায় বিডাররা খুশি হলেও পণ্য ডেলিভারিতে হয়রানি, ওজনে কম পাওয়া ও পণ্য চুরির অভিযোগ তাদের। এছাড়া যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি না নিলে জামানত বাবদ বিডারদের পরিশোধিত লাখ লাখ টাকার পে-অর্ডার কর্তৃপক্ষ বাজেয়াপ্ত করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিডাররা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম কার্যক্রমের ধরিগতি নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। খালাস না হওয়া নয় হাজার কনটেইনার বছরের পর বছর পড়ে আছে বন্দর চত্বরে। যা মোট ধারণক্ষমতার ২০ শতাংশ দখল করে আছে দাবি করে কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে স্বাভাবিক কাজেই শুধু ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে না, বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তাই কনটেইনার জট কমিয়ে নিলাম কার্যক্রমে গতি আনতে স্থায়ী আদেশের পাশাপাশি বিশেষ নিলামেরও আয়োজন করছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয রোধ ও বন্দরের জট কমাতে এবার রেকর্ড ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশনে তুলেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমীন বলেন, ‘অকশনের মাধ্যমে যোগ্য বিডাররা এখানে পার্টিসিপেট করতে পারে। ৪৪২ কন্টেইনারভুক্ত যে পণ্য আছে, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানে সবাই ই-অকশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারবে।’

বিডাররা বলছেন, নিলাম কার্যক্রম গতি আসলেও কমিটিতে অনুমোদনে দেরি ও ডেলিভারিতে হয়রানি কমেনি। অনেক সময় পণ্য ওজনে কম পেলে বা চুরি হলেও পরিশোধিত বাড়তি শুল্ক কর ও মূল্য ফেরত দিচ্ছে না কাস্টমস। এমনকি শুল্ক কর পরিশোধের পরে উধাও হচ্ছে পণ্য ভর্তি কন্টেইনার।

চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলাম ব্যবসায়ীকল্যাণ সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বলেন, ‘কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশক্রমে ক্যাটালগভুক্ত হবে। কিন্তু এখানে দেখা যায়, যিনি বিড করেছেন, একজন নতুন বিডার, উনি জানেন যে ৫০ হাজার টন মাল ওখানে সংরক্ষণ করা আছে। কিন্তু যখনই ডেলিভারি করতে যায়, তখন দেকা যায় ৪২ হাজার টন। ৮ হাজার টন পণ্য যদি সেখানে কম থাকে, ওই বিডারের অবস্থাটা কী দাঁড়ায়?’

বিডার মো. ইয়াকুব বলেন, ‘ওজন করে মনে করেন, ৫০ টনের জায়গায় ৩০ টন হলো, তখন আপনি আমার থেকে কী মূল্যে নেবেন? আবার যদি ২৫ টনের জায়গায় ২০ টন হয়, তখন বলবেন, না, যেখানে যে অবস্থায় আছে, নিয়ে যান। কেন?’

পণ্য ডেলিভারির জন্য সময় কম দেয়া হচ্ছে— অভিযোগ বিডারদের। এতে যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি নিতে না পারায় জামানত খুইয়ে উৎসাহ হারাচ্ছেন বলেও দাবি তাদের। তাই পণ্য ডেলিভারির সময় বাড়ানো ও নিলামের প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি বিডারদের। যদিও পণ্য কম পাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান কাস্টম কর্মকর্তারা।

বিডার তপন সিংহ বলেন, ‘নির্ধারিত কার্যদিবসের মধ্যে আমি এখন ৫ কোটি টাকা জোগাড় করতে পারলাম না, তখন এটা চলে যায় বাজেয়াপ্তের দিকে। নতুন সার্কুলার দিছে, এই টার্মটাই তো এক মাস করা দরকার।’

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমীন বলেন, ‘তারতম্যের বিষয় যেটা বলা হচ্ছে, এর ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ যদি অভিযোগ করে, তাহলে সেই বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখতে পারি।’

আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে স্থায়ী আদেশে নিলামের জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ও বিশেষ ই-অকশনের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিলাম থেকে ২৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম।

এসএইচ