চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার উঠানামার চারটি টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-যা হ্যান্ডেল করে প্রায় ৪০শতাংশ। দ্বিতীয় বৃহত্তম টার্মিনাল জিসিবি হ্যান্ডেল করে প্রায় ৩৬ শতাংশ, পরের অবস্থানে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল। পরিসংখ্যান বলছে, এক বছরের ব্যবধানে এনসিটি ও পিসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়লেও কমে গেছে জিসিবি ও সিসিটিতে। গত নয় মাসে জিসিবিতে ৭ লাখ ১৫ হাজার টিইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে- যা গত বছরের একই সময়ের চাইতে দেড় লাখ টিইইউএস কম।
সাল এনসিটি জিসিবি সিসিটি পিসিটি ২০২৪ ১২ লাখ ৭৯ হাজার ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৩১ হাজার প্রায় ২০২৫ ১৩ লাখ ৫০হাজার ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৪ লাখ ৮৬ হাজার ১ লাখ ৪হাজার ২০২৬ ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭ লাখ ১৫ হাজার ২ লাখ ৯৭ হাজার ২ লাখ ৭৪ হাজার
বার্থ অপারেটরদের অভিযোগ, জাহাজ বণ্টনে বৈষম্য করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী ক্রেনযুক্ত জাহাজ আগে জিসিবিতে ভেড়ার কথা কিন্তু প্রথমে এনসিটি ও সিসিটিতে বার্থিং দিচ্ছে বন্দর। এতে প্রতি মাসে জিসিবির একেকটি জেটিতে ১৫ হাজার বক্স কনটেইনার পাওয়ার কথা থাকলেও তা অর্ধেকে ঠেকেছে। এ অবস্থায় লোকসান কমাতে জাহাজ ও কনটেইনার বণ্টনে সমন্বয় ও চুক্তিমূল্য বাড়ানোর আবেদন করে বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন বার্থ অপারেটররা।
আরও পড়ুন:
শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্থ সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, ‘এনসিটি এবং সিসিপিতে তারা হয়তো হ্যান্ডেলিং চার্জ বেশি পায় বলে, ওইখানে লাভবান বেশি হয় বলে তাদের ইয়েটা হচ্ছে—প্রথম প্রায়োরিটি হচ্ছে এনসিটি, সিসিপি এবং এরপরে হচ্ছে জিসিবি। কন্টেইনারের যেহেতু সংখ্যা কমে গেছে, সেহেতু আমাদের এখন আয়ও আমাদের যেটা আমাদের ইনকামের মধ্যে এটা যথেষ্ট আমাদের এফেক্ট করেছে, এফেক্টেড রয়েছে।’
এমএইচ চৌধুরী লিমিটেড চিফ অপারেশনাল অফিসার খন্দকার মুরাদ বলেন, ‘জাহাজ কমে কমে যাওয়াতে আমাদের এদিকের শ্রমিক প্রায় ৮ হাজার ৯ হাজার শ্রমিক—তাদেরকে প্রত্যেকদিন মানে জাহাজের অপেক্ষায় থাকতে হয়। কিন্তু অন্যান্য টার্মিনালে জাহাজ যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের ইদিকের আসতেছে না।’
শিপিং এজেন্টদের অভিযোগ, এনসিটি ও সিসিটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বন্দর। এতে অনেকক্ষেত্রে খরচ বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যবাহী ও খালি কনটেইনার জাহাজীকরণে পর্যাপ্ত সময় না দেয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
ক্রাউন নেভিগেশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদ সারোয়ার বলেন, ‘আমরা যখন জাহাজগুলা চার্টারিং এ নিই, আমি ক্রেন দিয়ে নিই কিন্তু গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে যাওয়ার জন্য না। আমি ক্রেন দিয়ে অপারেশন করব, সেই হিসেবে আমার কস্টিং করা। কিন্তু পোর্টের পোর্ট নিজস্ব সুবিধার কারণে আমার জাহাজগুলোকে ওইখানে নিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, আমি এক্সপোর্ট লোড করার জন্য সাফিসিয়েন্ট টাইম পাচ্ছি না। আমি যদি আরেকটু সময় পাই, এমটিগুলি নিয়ে আমি আমার রেভিনিউটা একটু বাড়াতে পারি। কিন্তু সিসিপি, এনসিটিতে ওইটা এলাউ করছে না।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে বন্দরের সচিব বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো সুরাহা করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনা করে সব প্রতিপক্ষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে, আশা করি। আলোচনার মাধ্যমে একটা ফলপ্রসূ সমাধান আসবে।’
এনসিটি ও সিসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিয়ের আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন থাকায় স্বয়ক্রিয়ভাবে জাহাজ থেকে কনটেইনার উঠানো-নামানো হয়। এ টার্মিনালের আধুনিকায়নে বার্থ অপারেটররা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলেও সাড়া দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ।





