জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যায় হাজারেরও বেশি শিল্প কল-কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কেউ কেউ একাধিক মামলায় আছেন কারাগারে, কেউ বা রয়েছেন বিদেশে পালিয়ে। এদের মধ্যে আবার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নামে বেনামে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের। অভিযোগ আছে বিদেশে অর্থ পাচারেরও।
এ তো গেলো বন্ধ কল-কারখানা আর এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কথা। এর বাইরেও একইরকম চলছে এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে বেশ কিছু। এরইমধ্যে ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছ থেকে এমন ১২০০ বেশি প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরও পড়ুন
বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে চালু করতে ৪০ হাজার কোটি টাকার পুন:অর্থায়ণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার আওতায় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হবে ২০ হাজার কোটি টাকা, কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ১০ হাজার কোটি এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে কৃষিখাতে। তবে বিপুল পরিমাণ এ অর্থের যোগান কোথা থেকে দেয়া হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুণ:অর্থায়নকে স্বাগত জানালেও সামস্টিক অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। যারা রাষ্ট্রের টাকা লুটপাট করেছে তাদের প্রতিষ্ঠানকে এর বাইরে রাখার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন সিদ্দিক বলেন, ‘যেখানে ১৮ লাখ কোটি টাকার মধ্যে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। তার বন্দবস্ত না করে আপনি দেশের অর্থনীতির ওপরে চাপ তৈরি করছেন।’
অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হক বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ঋণনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। আবার আপনি যদি ঋণ নিয়ে যে সব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে সহায়তা কার চেষ্টা করছেন, তারা যদি ভবিষ্যতে টিকে থাকতে না পারে তাহলে তো বাংলাদেশ ঋণ নিতে নিতে দৈউলিয়া হয়ে যাবে।’
যদিও অর্থের যোগান মুখ্য বিষয় না জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলছেন, কর্মসংস্থান বাড়িয়ে সামজিক সৃঙ্খলা বাড়ানোই প্রধান্য দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রতিষ্ঠান চালুর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক মূখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘টাকাটা এ মূহুত্বে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। সব প্রতিষ্ঠানে যে আর্থিক সহায়তা দিয়েই যে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা যাবে তা কিন্তু না। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অনেক ভালো অবস্থানে আছে। তাদের টাকাও সমস্যা না তাদের কাছে মূল সমস্যা হলে রাজনৈতিক ইস্যু। বলা যায় টাকা দিয়েই যে সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে তা কিন্তু না। একেক প্রতিষ্ঠানকে একেক রকমের সহায়তা দেয়া হবে।’
টাকা ছাপিয়ে অর্থ সহায়তা না করে আসন্ন বাজেটে অর্থ বরাদ্ধের পাশাপাশি তারল্য পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এমন ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।





