ভারতের বাণিজ্য নীতির কড়াকড়িতে চাপ বাড়ছে দেশের ব্যবসায়ীদের

গার্মেন্টেসে কাজ করছে কর্মীরা
আমদানি-রপ্তানি
অর্থনীতি
0

ভারতের বাণিজ্য নীতির কড়াকড়িতে চাপের মুখে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন বিধিনিষেধে টানা ছয় মাস ধরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি নিম্নমুখী। এদিকে আমদানির ক্ষেত্রে ভারত নির্ভরতা কমাতে না পারায় গভীর হচ্ছে সংকট। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সুতা শিল্প।

বাংলাদেশ-ভারতের দেড় দশকের ঘনিষ্ঠতা, এখন রুপ নিয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে। পুশইন, দেশ বিরোধী প্রচারণা, মোস্তাফিজ ইস্যু সীমান্ত থেকে দূতাবাসে ছড়িয়েছে অবিশ্বাসের ঢেউ। রাজনৈতিক সেই উত্তাপের প্রভাব দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও স্পষ্ট।

ভারতের বিধিনিষেধে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশি পণ্যে রপ্তানি কমেছে সাড়ে ছয় শতাংশের বেশি। সবচেয়ে বেশি ধরাশায়ী তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্য।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশে গত দুই-তিন বছরে নানারকমের ফ্যাসিলিটি একপোর্টের যা ছিল, এসবই কিন্তু প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরা কি এখন নতুন এলডিসি গ্রাজুয়েশনের দোহায় দিয়ে, আইএমএফের দোহায় দিয়ে আমাদের সবকিছু প্রত্যাহার করে নিলে আলটিমেটলি আমার রপ্তানি খাত তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাপারেল ফাউন্ডেশনের সভাপতি একেএম শোয়েব বলেন, ‘ট্রাক যাওয়া-আসার শঙ্কা, বিশেষ করে একপোর্ট করা বা ইমপোর্টের যে ব্যাপারটা, সেখানে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৮০ থেকে ৯০টি ট্রাক যাচ্ছে ভারতে।’

একদিকে ভারতে রপ্তানি কমলেও আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বাংলাদেশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগপণ্যের পাশাপাশি জ্বালানি থেকে সুতা সবক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেড়েছে ভারত নির্ভরতা।

আরও পড়ুন:

আমদানি তথ্য থেকে দেখা যায়, গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে কটন সুতার আমদানি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯৩ দশমিক ৫ কোটি ডলারে ২২ কোটি কেজি সুতা আমদানি হয়। পরবর্তী দুই অর্থবছরে চলমান ছিলো সেই ধারাবাহিকতা। এসব সুতার বেশির ভাগ আমদানি হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে।

বিটিএমএর সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, ‘আমার দেশেও সুতার কস্টিং তিন ডলার, তার সুতার কস্টিংও তিন ডলার। কিন্তু সে বাংলাদেশের বাজারে দুই ডলার ৭০ থেকে দুই ডলার ৫০ সেন্টে সুতা বিক্রি করছে, এ গ্যাপটা এমন। তাদের সরকার বিভিন্নরকম সাবসিডি দেয়। সে কারণে তারা পারছে। আমাদের সমপরিমাণ ইনসেনটিভ দেয়া হোক। যেন একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে আমরা পণ্যটা বিক্রি করতে পারি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাংলাদেশের ভৌগলিক প্রেক্ষাপটে ভারতের বাজার দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে অর্থনীতিকে মিলিয়ে ফেলা উচিত হবে না।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘উভয় দেশের ভেতর স্থলবন্দর কেন্দ্রিক বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়া যতটা ভারতের দুশ্চিন্তা তার থেকে অনেক বেশি এটা বাংলাদেশের জন্য। আমি মনে করি যে, বাংলাদেশের দিক থেকে রাজনৈতিক কোনো বিবেচনাতেই যেন অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যেন কোনো বাধাগ্রস্ত না হয়। এটি নিশ্চিত করা দরকার।’

আগামীতে নির্বাচিত সরকার পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ে যৌক্তিক আচরণ করবে বলে প্রত্যাশা সিপিডির।

এসএস