নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রাম
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী
এখন জনপদে
অপরাধ
1

নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে বেড়েছে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা। এতে আতঙ্কে রয়েছে ব্যবসায়ীরা। আবাসন খাত, ঝুট ব্যবসা, বালুমহাল থেকে শুরু করে বড় বাণিজ্য কেন্দ্র- কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে গুলি, হামলা ও হত্যায় উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অগ্রগতি না থাকায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে সন্ত্রাসীরা।

নগরীর চান্দনপুরা এলাকা। গভীর রাতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে কেঁপে ওঠে সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাসভবন।

গত ২ জানুয়ারি ভোরের আলোয় কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে একটি সাদা মাইক্রোবাসে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নামে বিদেশি নম্বর থেকে দশ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেয়ায় ভয় দেখাতেই এ হামলা।

কয়েকদিন আগেও হামজারবাগে একটি নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা না পেয়ে গুলি ও তিন শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। একই থানায় দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লুট হয় প্রায় ৩৫০ ভরি স্বর্ণ।

সবশেষ বিএডিসি কার্যালয়ে ঢুকে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে কর্মচারীদের হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনকে ঘিরে খাতভিত্তিক প্রকাশ্য ও নীরব চাঁদাবাজি বেড়েছে।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী বলেন, ‘চাঁদার লেভেলটা আসলে কয়েক পর্যায়ে আছে। কোনোটা দোকানে চাঁদাবাজি, কোনোটা জুট নিয়ে চাঁদাবাজি, কোনোটা আবার কন্সট্রাকশন নিয়ে হয়। এর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের তো হয়রানি আছেই। আমরা যারা ব্যবসা করছি, ওদের এরকম যদি থ্রেট আসতে থাকে তাহলে তারা তো এক পর্যায়ে বিনিয়োগটাই বন্ধ করে দেবে।’

চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, ‘অনেক জায়গা থেকে টেলিফোন আসছে, এখানে হুমকি দিচ্ছে আবার বাইরে গুলি করে চলে যাচ্ছে। হুমকি দেয়ার পর জানালায় গুলি করে চলে যাচ্ছে। ভয়ভীতির মাধ্যমে আদায় করা হয়, আমি আলটিমেটাম দিয়ে গেলাম চাঁদা দাও নাহলে তোমার জীবন নিয়ে নেয়া হবে। আর এরকম হত্যাকাণ্ড তো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:

সম্প্রতি ফটিকছড়িতে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে গুলিতে নিহত হন জামায়াত কর্মী জামাল। ছিনতাইকারীর হাতে হাটহাজারী ও বন্দর থানায় প্রাণ হারান আরও দু’জন। আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, আগে চাঁদাবাজি ছিল নিয়ন্ত্রিত, এখন তা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন।

রিহ্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক পরিচালক এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী আছে অনেকে এটা হাইড করে যাচ্ছেন, যে আমি এটা ফলাও করলে হয়তো আমার ব্যবসার ক্ষতি হবে। সেজন্য নিজেরাই ঠিক করে নিচ্ছেন আবার অনেকেই আছে পলিটিক্যাল সাপোর্ট ব্যবহার করে চাঁদাবাজিকে কন্ট্রোল করছেন। যে যেভাবে পারছে তার ব্যবসাকে রক্ষা করার জন্য বিষয়টাকে নেগোসিয়েশন করে চলছে।’

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সক্রিয় হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ দুই-ই হুমকির মুখে পড়ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান চলছে। চলতি জানুয়ারির প্রথম ১৩ দিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী, ২০১ জন ছিনতাইকারী এবং ৩৩ জন চাঁদাবাজ।

নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে বাড়তে থাকা এ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সাধারণ মানুষের জীবনকেও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এসএস