ইউজিসির নীতিমালা মেনে তিন ধাপ পেরিয়ে শেকৃবিতে শিক্ষক নিয়োগ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাস
শিক্ষা
11

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে প্রথমবারের মতো লিখিত পরীক্ষা, ডেমো ক্লাস এবং ভাইভার সমন্বয়ে তিন স্তরের যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও সিড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কেবল মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) ভিত্তিতে নিয়োগের সংস্কৃতি ভেঙে এবার কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল। অতীতে অনার্স শেষ করেই এমনকি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক হওয়ার সুযোগ ছিল।

তবে এবারই প্রথম প্রতিটি পদের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী ৫ জনকে ডেমো ক্লাস ও ভাইভার জন্য নির্বাচিত করা হয়। এসএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত একাডেমিক ফল, লিখিত পরীক্ষা এবং ডেমো ক্লাসের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সুপারিশ আসে ফলে মেধাবী প্রার্থী বাদ পড়ার আশংকা থাকে। জুলাই আন্দোলনের পর আমি দায়িত্ব নিয়েই প্রত্যয় করি শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ এড়িয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন নিয়োগ পায় সে বিষয়ে জোর দেয়া।’

তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে কিন্তু এ প্রথম লিখিত পরীক্ষা নিয়ে প্রতি পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ নাম্বার প্রাপ্ত ৫ প্রার্থীকে ডেমো ক্লাস এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। তারপর তাদের ডেমো ক্লাস এবং মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রার্থীদের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে বাছাই বোর্ডের প্রত্যেক সদস্য আলাদা আলাদা নাম্বার প্রদান করেন। প্রার্থীদের এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স, মাস্টার্স এর প্রাপ্ত সিজিপিএ, লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নাম্বার এবং ডেমো ক্লাস ও মৌখিক পরীক্ষার নাম্বার যোগ করে সর্বোচ্চ নাম্বার প্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

বাছাই বোর্ডের অন্যতম সদস্য প্রো-ভিসি অধ্যাপত ড. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়ার ওপর ভিত্তি করে এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

বাছাই বোর্ডের আরও একজন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আবুল বাশার বলেন, ‘এবারে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছেৎ। ভবিষ্যতেও শিক্ষক নিয়োগে এ নিয়ম অনুসরণ করা উচিত।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো আশাবাদ ব্যক্ত করে জানায়, এ ধারা অব্যাহত থাকলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী শিক্ষকের মাধ্যমে দেশের জন্য মেধাবী কৃষিবিদ তৈরি করবে। যা কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে এগিয়ে নেবে।’

এএইচ