চট্টগ্রামে হামের পর বাড়ছে নিউমোনিয়া, ঝুঁকিতে শিশুরা

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে বাড়ছে নিউমোনিয়া
স্বাস্থ্য
0

চট্টগ্রামে হাম থেকে সুস্থ হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি, চিকিৎসকরা বলছেন, হামের প্রভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় ৩ মাস চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। অপুষ্টিতে ভোগা, টিকা না নেয়া কিংবা জনবহুল এলাকায় বসবাস করা ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি।

নগরের চকবাজারের বাসিন্দা ইমন দাশ। বেসরকারি এই চাকরিজীবী গত দুই সপ্তাহ আগে তার ৯ মাস বয়সি নাতিকে নিয়ে গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। জ্বর, কাশি আর হামের উপসর্গ নিয়ে সেখানে ভর্তি ছিল শিশুটি। সপ্তাহখানেক পর জ্বর কমলে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়ি ফেরেন তারা। ভেবেছিলেন বিপদ কেটে গেছে। কিন্তু ঘরে ফেরার তিন-চার দিনের মাথায় শরীরে লালচে ফুসকুড়ি আর নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় শিশুটির। ফের তাকে নিয়ে আসতে হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ইমন দাশ বলেন, ‘কিছুদিন আগে একবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিলো পরে ডাক্তার বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। তার কিছু দিন পর আবারও শরীরে গুটি ওঠে।’

আরও পড়ুন

ইমন দাশের নাতির মতো একই দশা চট্টগ্রামের আরও অনেক শিশুর। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরও আবারও আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়। শরীরে তীব্র হচ্ছে হামের নানা উপসর্গ। দুশ্চিন্তায় আদরের সন্তানকে নিয়ে আবারও হাসপাতালে ছুটে আসছেন অভিভাবকরা। হাম নিউমোনিয়া নিয়ে আবারও আসতে হচ্ছে বলে জানান রোগীর স্বজনরা।

হাম উপসর্গ, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় চমেক হাসপাতালে ৪২ দিনে ভর্তি হয়েছে ৭৪৫ শিশু। মারা গেছে ৭২ জন। হাসপাতালের তথ্যে, এখন পর্যন্ত ৫৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অনেককেই আসতে হয়েছে দ্বিতীয়বার। কারও অবস্থার উন্নতি হয়েছে, কারও কপালে আর জোটেনি মায়ের মুখ দেখার সুযোগ।

চিকিৎসকরা বলছেন, বারবার রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি মূলত ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদেরই বেশি। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যারা হামের টিকা নেয়নি কিংবা যারা জনবহুল এলাকায় থাকে, তাদেরই ঝুঁকি বেশি। অনেকে ভিন্ন রোগ নিয়ে হাসপাতালে এসেও হামের জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি টিকা নেওয়ার পরও অনেকে রেহাই পাচ্ছে না, কারণ টিকার কার্যকারিতা শুরু হওয়ার আগেই জীবাণু তাদের শরীরে বাসা বাধছে।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘এখানে অনেক মানুষ থাকার কারণেও অনেক সময় এ রোগ ছড়াতে পারে। আবার টিকা দেয়ার পর ১২ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে স্বাভাবিক হতে। এ সময়ের মধ্যেও হতে পারে।’

এ বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্তত তিন মাস পর্যন্ত শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এ সময়ে সামান্য অবহেলা মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বলেন, ‘অনেক সময় পুষ্টিজনিত কারণেও বাচ্চারা অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকে।’

এক্ষেত্রে অনেক সময় পরিবারের বড়দের মাধ্যমেও শিশুরা আক্রান্ত হয়। তাই বয়স্কদের শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের সংস্পর্শ থেকে আলাদা থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

জেআর