শিশুর হৃদরোগ শনাক্তে রাজশাহীতে চীন-বাংলাদেশের যৌথ ক্যাম্প

চীন-বাংলাদেশের যৌথ ক্যাম্প
এখন জনপদে
স্বাস্থ্য
1

শিশুর হৃদযন্ত্রের জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে রাজশাহীতে চলছে চীন-বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে মেডিকেল ক্যাম্পেইন। এরইমধ্যে দিন হাজার শিশুর নিবন্ধন নিশ্চিত করেছে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। ক্যাম্পেইনে জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটি নির্ণয় হলে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার সুবিধা দেবে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউ ও রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।

চলছে কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ের পরীক্ষা। ছোট্ট হৃদয়ে মারাত্মক কোনো ঝুঁকি আছে কি না— তার আদ্যোপান্ত খতিয়ে দেখছেন দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায়, চীনের ইউনান ফুওয়াই, চীনা একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্স ও জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের আয়োজনে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চলছে এই ক্যাম্পেইন।

জন্মগত হৃদরোগ চিহ্নিত করনে, গত ১০ দিনের রেজিষ্ট্রশান শেষে নগরীর ৪৫টি স্কুল থেকে ৩-১৮ বছরের শিশুদের আনা হয়েছে এখানে।

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. তানিয়া আকতার জাহান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি ১০টা থেকে ১২টা বাচ্চাদের জন্য বুথ রাখতে। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু চেকলিস্ট রাখতে, যে জিনিসগুলো দেখে আমরা বুঝতে পারি যে বাচ্চার পালপিটেশন, আমরা যেটা বলি যে ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কি না, হাত-পা কালো হয়ে যায় কি না, শ্বাসকষ্ট হয় কি না, আগে থেকে হার্টের সমস্যা আছে কি না।’

আরও পড়ুন:

জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা বিলম্বে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে। সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতায় পরিবারের আর্থিক ক্ষতি বাড়ায়। প্রান্তিক পর্যায়ে এই চিকিৎসা ব্যায় সাপেক্ষ, তাই আগত স্কুল শিক্ষক ও অভিভাবকরা স্বাগত জানালেন, চীন-বাংলাদেশের এই আয়োজনকে।

শিক্ষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বিনামূল্যে এই চিকিৎসা করার ফলে একটা স্টুডেন্ট যেমন মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে ফিট হচ্ছে, ফলে তারা পড়াশোনায় অনেক মনোযোগী হবে।’

অভিভাবকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সমস্যা থাকলে তারা এখান থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে বলেছে। এটা আমাদের জন্য বড় একটা সুযোগ।’

নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতি হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজনের হৃদযন্ত্রের জন্মগত ত্রুটি রয়েছে। রাজশাহীতে এ রোগের শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাইরে থাকছে একটা বড় জনগোষ্ঠী। তাদের সুবিধায় এই আয়োজন বলছেন চিকিৎসক ও হার্ট ফাউন্ডেশনের সংগঠকরা।

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের বিভাগীয় প্রধান মুহাম্মদ আতাউল হক বলেন, ‘চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায় আছে। কখনো পরামর্শ লাগে, কখনো ওষুধ লাগে, কখনো ইন্টারভেনশন লাগে, কখনো সার্জারি লাগে। এই সেটিংয়ে যা করা সম্ভব, তা এখানে করার চেষ্টা করা হবে।’

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শনাক্ত না হওয়ার কারণে অনেক বয়সে এটা ধরা পড়ে। ধরা পড়ে তখন এই ডিজিজটা—অর্থাৎ এই জটিলতাটা আরও গভীরতর হয়। ফলে তার লাইফ থ্রেটেনিং হয়।’

আরও পড়ুন:

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান খোকন বলেন, ‘ডিভাইস লাগানোর প্রয়োজন হয়—অর্থাৎ ফুটো বন্ধ করার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী সেটা ডোনেশন হিসেবে দেবো।’

শিশুদের জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটি নির্ণয়ের এই ক্যাম্পেইনে চীনের অংশগ্রহণ মানবকল্যাণের অংশ। সঙ্গে চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাদের প্রযুক্তিগত সুবিধা নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে জানান জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘তারা বলছেন—আমরা এক্সপার্ট নিয়ে আসবো, আমরা দরকার পড়লে লজিস্টিক সাপোর্ট দেবো, সেটা ইকুইপমেন্টের সাপোর্ট হতে পারে, সেটা ডিভাইসের সাপোর্ট হতে পারে, আমরা দরকার পড়লে সামনের দিকে কার্ডিয়াক সার্জনকে নিয়ে আসবো; আপনারা আপনাদের দিক থেকে এগিয়ে আসেন, আমরাও এগিয়ে আসি।’

আগামীকাল (শুক্রবার, ২৪ জুলাই) শেষ হচ্ছে শিশুদের হৃদযন্ত্রের জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ের এই ক্যাম্পেইন। এই তিন দিনে রাজশাহী নগরীসহ ৯টি উপজেলার তিন হাজার শিশুকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার প্রত্যাশা রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের।

এসএস