সিলেটে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না হাম সংক্রমণ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬৪ জন, মারা গেছে এক শিশু। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮১ জনে।
শিশুদের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্করাও। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৬৮ জন। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮১ জনের শরীরে। তবে হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১২ হাজারের বেশি রোগী।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, ‘৯৫ শতাংশের ওপরে দিয়েছে এবং ক্যাম্পেইনে এই যে যে ক্যাম্পেইন হয়েছে ক্যাম্পেইনেও টিকা নিয়েছে। এখন এটা একটা মহামারী বা ইয়ে পর্যায়ে যেহেতু সিলেটে এখন ইয়ে হচ্ছে আপনার ছড়িয়ে পড়েছে। আশা করতেছি এটা কমে যাবে।’
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুরু হয়েছে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। সিলেট বিভাগের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মৌলভীবাজারেও বাড়ছে হামসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। জেলায় এখন পর্যন্ত হাম উপসর্গের রোগী ১ হাজার ৯৯০ জন। ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫৮ জনের, রুবেলা দুইজনের। মারা গেছে ১৫ শিশু। আড়াইশো শয্যার সদর হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন চার থেকে সাড়ে চারশো রোগী। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ৩২ জন—এর মধ্যে ২৩ শিশু ও ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক। শয্যা সংকটে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা জুড়ে জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগীর চাপও বেড়েছে।
রোগীর স্বজনদের একজন বলেন, শুরুতে জ্বর ছিলো। জ্বর থেকে শরীর দিয়ে ছোট ছোট যেটা ঘামাচি বলি আমরা এরকম বের হয়েছে যেটা হাম রোগ আর কি।’
২১ হাজার ৩৪৪ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তিন দিনে টিকা পেয়েছে ৪ হাজার ১৭৫ জন। প্রচারণার ঘাটতির কারণে চা-বাগানসহ অনেক এলাকার শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মৌলভীবাজার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেক টিকা কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত প্রত্যেক দিনই আমাদের মিজেলসের টিকা যাচ্ছে। এবং আমরা টিকা দেয়ার আগের দিন আমাদের আইপিসিতে আমরা সেটা বলছি। পাশাপাশি আমরা মাইকেও ঘোষণা দিচ্ছি, রোডসাইড মাইকিংও করছি।’
পটুয়াখালীতেও কমছে না হামের প্রকোপ। নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৪ জন। হাম প্রতিরোধে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৩৭ হাজার ৭৮৯ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন।
সমুদ্রতীরবর্তী ও চরাঞ্চলে সংক্রমণ বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে সচেতনতা ও টিকাদান কার্যক্রম।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, ‘বর্তমান সরকার আশা করি কিন্তু খুব দ্রুত ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা করছে এবং বর্তমানে সেই ভ্যাক্সিনের ক্যাম্পেইনও চলছে প্লাস নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমও চলতেছে। এবং পাশাপাশি এর পাশাপাশি আমাদের যে ফিল্ডের যে স্বাস্থ্যকর্মী আছে তারা কিন্তু প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।’
সিলেট থেকে মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী—তিন জেলাতেই হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হলেও সংক্রমণ ও রোগীর চাপ এখনো উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান ও বিশেষ ক্যাম্পেইনে শিশুদের টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে যথাযথ আইসোলেশন নিশ্চিত করাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায়।





