বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটন, পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েন
বিদেশে এখন
0

ইরানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তবে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তেহরান। তবে ইরানকে আর সময় দেয়া উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরইমধ্যে ইরানে সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালানোর জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী প্রস্তুত হচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। পাল্টা জবাব দিতে হাজার হাজার মিসাইল নিয়ে প্রস্তুত বলে আগে থেকেই হুঁশিয়ার করে রেখেছে তেহরানও।

দফায় দফায় আলোচনার পরও বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা। এবার মধ্যপ্রাচ্যের দিকে দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড পাঠানোর খবরে বেজে উঠছে যুদ্ধের ডঙ্কা। এরমধ্যেই দুই সূত্রের বরাতে চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যেখানে বলা হয়, ইরানে হামলা চালানোর জন্য এখন কেবল ট্রাম্পের নির্দেশনার অপেক্ষায় মার্কিন সেনারা। আর খামেনি শাসনব্যবস্থা পতনের জন্য অভিযানও হতে পারে দীর্ঘ ও ভয়াবহ।

এমন পরিস্থিতিতে জার্মানির মিউনিখে চলমান ৬২তম বিশ্ব নিরাপত্তা সম্মেলনে গুরুত্ব পাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গ। সম্মেলনের সাইডলাইনে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম শনিবার জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ‘আমাদের এখন পিছিয়ে আসা সম্ভব না। যদি এখন পিছিয়ে আসি, তাহলে এটি হবে আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পুরো বিশ্বকে বোঝাতে হবে যে একটি কূটনৈতিক সমাধান বা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

এদিকে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি। বলেন, ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত তারা।

ইরান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি বলেন, ‘আমেরিকা যে চুক্তি করতে চায় তা প্রমাণ করার পালা এখন। যদি তারা আন্তরিক হয়, আমি নিশ্চিত যে আমরা একটি চুক্তির পথেই থাকবো।’

ইরানের মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জর্জরিত দেশ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও মিউনিখ সম্মেলনে তেহরানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আর কিছুতেই সময় দেয়া উচিত হবে না।

আরও পড়ুন:

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘ইরানের মতো শাসনব্যবস্থাকে আর সময় দেয়া উচিত হবে না। সময় পেলে তারা কেবল হত্যা করে। তাদের এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে থামাতে হবে। রাশিয়ার আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যেও তারা বাধা।’

মিউনিখে দেখা গেছে, ইরানের বিরোধীদলীয় নেতা ও নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা পাহলভিকেও। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, খামেনি শাসনব্যবস্থা এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে।

ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলাভি বলেন, ‘ইরানের জনগণের বিদ্রোহে বর্তমান শাসনব্যবস্থা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে দুর্বল। এ শাসনব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার। এখন পশ্চিমা বিশ্ব হস্তক্ষেপ করুক বা না করুক, আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং শাসনব্যবস্থার পতন হবেই।’

এদিকে হমলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাবে, তা প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এরইমধ্যে তেহরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে তারা। এরজন্য হাজার হাজার মিসাইলও প্রস্তুত। পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের।

এফএস