ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, ‘আমরা গতকালই বিষয়টি স্পষ্ট করেছি যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে কোনো পর্যায়ের আলোচনা বা সংলাপ চলছে না।’
মার্কিন কূটনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার কূটনীতি নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তিক্ত ও বিপর্যয়কর। আমরা যখন পরমাণু ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনার টেবিলে ছিলাম, তখন মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে দুইবার আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একে কূটনীতির সাথে সরাসরি ‘‘বিশ্বাসঘাতকতা’’ ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।’
বাঘাই বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে বেশ কিছু বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে... আমরা সেই বার্তাগুলোর জবাব দিয়েছি। আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—আমরা নিজেদের রক্ষা করা অব্যাহত রাখব।’
আরও পড়ুন:
বাঘাই আরও যোগ করেন যে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার দিকে তাকান। ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার। তাই তাদের কূটনীতি ও মধ্যস্থতার দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ তারা এ যুদ্ধ শুরু করেছে এবং ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় কেউ কি বিশ্বাস করতে পারে যে তাদের মধ্যস্থতার দাবিটি নির্ভরযোগ্য?’
পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বাঘাই বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে ইসলামাবাদের “সদুদ্দেশ্য” রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার পাকিস্তানি সমকক্ষ এবং অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।’
তিনি বলেন, ‘ইরান, তার প্রতিবেশী এবং অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের আলোচনা চলছে। আমরা বুঝতে পারছি যে অঞ্চলের দেশগুলো এবং প্রতিবেশীরা (বর্তমান পরিস্থিতির) পরিণাম নিয়ে চিন্তিত এবং সবাই কোনো না কোনোভাবে পরিস্থিতিকে শান্ত করতে সাহায্য করার চেষ্টা করছে।’
প্রসঙ্গত, গত তিনদিন ধরে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার ইরানের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দেয়া হলেও তেহরান শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আসছে। ইসমাইল বাঘাইয়ের এই মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা পরিষ্কার বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।





