মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখে সামরিক জোট ন্যাটো হচ্ছে কাগুজে বাঘ। ইরান যুদ্ধে সহায়তা না পেয়ে এবার এই জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটোর প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, জোট থেকে বের হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কানাডা অন্তর্ভুক্ত। সোভিয়েত আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৯৪৯ সালে গড়ে উঠে এই জোট। যা পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তার ভিত্তি। নর্থ আটলান্টিক চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো পক্ষ জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে হলে এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নোটিশ দিতে হবে। পরে মার্কিন প্রশাসন অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও আজ পর্যন্ত কোনো সদস্যই ন্যাটোর সদস্যপদ প্রত্যাহার করেনি।
আর যুক্তরাষ্ট্র জোট থেকে বের হতে চাইলে, ১০০ সদস্যের সিনেটের তিন ভাগের দুই ভাগ আইন-প্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। তা না হলে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই ন্যাটো চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে স্থগিত, বাতিল ও প্রত্যাহার করতে পারবেন না। ২০২৩ সালে কংগ্রেসে এই আইনটি পাস করেন তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
আরও পড়ুন:
৭৭ বছরের পুরনো এই আটলান্টিক জোট থেকে একতরফাভাবে ট্রাম্প বেরিয়ে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রায়ই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বড় বড় সিদ্ধান্ত নেন। ইরান যুদ্ধেও তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক চার্লস কাপচান বলেন, ট্রাম্প অনেক আগে থেকেই শুধু ন্যাটো নয়, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যেসব জোট রয়েছে, সেগুলো নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করে আসছেন। আমার ধারণা যুক্তিসঙ্গতভাবেই মনে করেন, মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে সুবিধা ভোগ করছে। তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করে না। সুতরাং ট্রাম্পের মন্তব্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে।
ট্রাম্প বহু বছর ধরেই ন্যাটোর কট্টর সমালোচক। প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, যেকোনো চুক্তি থেকে সরে আসার একচেটিয়া ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের, কংগ্রেসের নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী ন্যাটো ও ইউরোপীয় নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হয়, তাহলে কংগ্রেসের পক্ষে তা ঠেকানো মুশকিল হবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সাধারণত একটি চুক্তি থেকে সরে আসার ক্ষমতা থাকে। যদি বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়, তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো কঠিন হয়ে পড়বে।





