দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গন থেকে আলোচনার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। শান্তির বার্তা আসবে সে অপেক্ষায় ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন বিশ্ববাসী। কিন্তু ঐতিহাসিক আলোচনায় দু-পক্ষের শর্তের বেড়াজালে সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ছেড়েছেন দুই দেশের প্রতিনিধি দল। এখন ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার পাল্লা আরও ভারী হলো।
এরইমধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর হুমকি। কারণ বৈঠকের দিন শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের ম্যাপ নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ইরানের মিত্রশক্তিগুলোর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান নেতানিয়াহু।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তবে স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে, আমাদের ঐতিহাসিক সাফল্য রয়েছে। আমি মনে করিয়ে দিতে চাই যে- গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার আসাদ সরকার, ইরাকের মিলিশিয়া, ইয়েমেনের হুথি, এমনকি ইরানও আমাদের শ্বাসরোধ করতে চেয়েছিলো। উল্টো আমরা তাদের শ্বাসরোধ করেছি। তারা আমাদের ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিল। এখন তারাই টিকে থাকার জন্য লড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে।’
আরও পড়ুন:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের সরকার প্রধান। যেখানে ইরানকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ইরানকে সহযোগিতা করার এবং কুর্দি নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনেন। ইসরাইলি নেতার এমন মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন সংকট তৈরির শঙ্কা প্রকট হচ্ছে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একদিনের আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারা এবং চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে নেতানিয়াহুর লড়াইয়ের হুমকির মধ্যে সতর্ক অবস্থানে ইরান। ইসরাইলের মনোবাসনা পূর্ণ হবে না বলে, প্রতিরোধ ব্যবস্থা আগের চেয়েও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান। আর সশস্ত্র বাহিনী ট্রিগারে আঙুল রেখেই প্রস্তুত আছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যুদ্ধবিরতির সামান্যতম লঙ্ঘন ঘটলেই জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আঙুল ট্রিগারেই রেখেছে। তবে আমরা কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করে আগ্রহী।’
এদিকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকলেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। এর জেরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধের অবসান ঘটেনি। যে কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটছে। কমছে না জ্বালানি সংকটের তীব্রতা।





