পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিয়াদ পাকিস্তানের জন্য আরও ৫০ কোটি ডলারের আমানত ঘূর্ণায়মান রাখার মেয়াদও বাড়িয়েছে। নতুন এ সহায়তা ওই ব্যবস্থার বাইরে।’
এই পদক্ষেপ রিয়াদ ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। গত বছর দুই দেশ একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে ধরা হয়।
সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে ৩০০ কোটি ডলারের আমানতে সম্মত হয়েছে, যাতে তাদের ব্যালান্স অব পেমেন্টসকে সহায়তা করা যায়।’
এই মাসে পাকিস্তানের সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে, যা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ ফেলেছে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের রিজার্ভ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার।
এই পরিশোধটি ওই রিজার্ভের প্রায় ১৮ শতাংশের সমান। পাকিস্তানের ৭০০ কোটি ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় জুনের মধ্যে দেশটি ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে।
সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান শুক্রবার পাকিস্তানে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এটিকে অর্থনৈতিক সমর্থনের প্রদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সিনেটর আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, এই সহায়তা পাকিস্তানের বৈদেশিক অর্থায়নের চাহিদার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জোরদার ও দেশের বহিঃখাত মজবুত করতে সহায়তা করবে।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, বাজারের প্রতি অঙ্গীকার এবং আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বজায় রাখতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
খবরে এও বলা হয়, এই সংবাদে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক বন্ডের দাম বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদের বন্ডের দর প্রায় ১ সেন্ট বেড়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার প্রশ্ন করা হলে, আমিরাতি ঋণসুবিধার বিকল্প হিসেবে সৌদি ঋণ কি আলোচনায় আছে কি না, আওরঙ্গজেব বলেন, ‘ইউরোবন্ড, ঋণ ও বাণিজ্যিক ঋণসহ “সব বিকল্পই” টেবিলে আছে।’
অর্থনৈতিক চাপের সময়ে সৌদি আরব বারবার পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে রিয়াদ পাকিস্তানের জন্য ৬০০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩০০ কোটি ডলারের আমানত এবং ৩০০ কোটি ডলারের বিলম্বিত পরিশোধের তেল সরবরাহ।
অন্যদিকে পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় এই দেশটি শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ার পর সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাও জোরদার করছে।
গত সপ্তাহে ইরানি হামলার পর পাকিস্তান সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় ফাইটার জেট ও সহায়ক বিমান মোতায়েন করে।





