সামরিক ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়ার আধিপত্য বিশ্বজুড়ে

সামরিক শক্তি
বিদেশে এখন
0

চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতার জেরে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়েছে প্রায় তিন শতাংশ। তালিকার শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার সম্মিলিত ব্যয় বিশ্বের মোট ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি। সামরিক ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইউরোপে ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে আগের বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে সামরিক ব্যয়। সংঘাত বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

টানা ১১ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে সামরিক খাতের ব্যয়। ২০২৫ সালে গোটা বিশ্বে সামরিক খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় তিন শতাংশ বেশি। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, অনিরাপত্তা ও সামরিক শক্তি গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় রেকর্ড মাত্রায় বাড়ছে এই ব্যয়। ২০২৬ সাল এবং এর পরেও তা অব্যাহত থাকবে বলে শঙ্কা জানিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট।

সামরিক ব্যয়ের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। গেল বছর দেশগুলোর সম্মিলিত ব্যয় ছিল এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি ডলার। যা বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৫৮ শতাংশ। ২০২৫ সালে সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে ইউরোপ। রাশিয়া, ইউক্রেনসহ পুরো মহাদেশে সামরিক ব্যয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা জার্মানির সামরিক খাতে ব্যয় বেড়েছে ২৪ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:

সামরিক খাতে ব্যয়ের শীর্ষ ৫ দেশ

যুক্তরাষ্ট্র ৩৩ শতাংশ, চীন ১২ শতাংশ, রাশিয়া ৬.৬ শতাংশ, জার্মানি ৩.৯ শতাংশ ও ভারত ৩.২ শতাংশ।

এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম বিশ্বের শীর্ষ ব্যয়কারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনে নতুন কোনো সামরিক সহায়তা বরাদ্দ না করায় এক বছরের ব্যবধানে মার্কিন সামরিক ব্যয় কমেছে সাড়ে ৭ শতাংশ। তবে এই ধারা বেশি দিন টিকবে না বলে মত বিশ্লেষকদের। এরইমধ্যে চলতি বছরে এক লাখ কোটি ডলারের বেশি সামরিক বরাদ্দ অনুমোদন করেছে কংগ্রেস। যা পাস হলে ২০২৭ সালে এই ব্যয় দাঁড়াবে দেড় লাখ কোটি ডলারে।

এদিকে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ব্যয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক এক শতাংশ। ইরানে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং ইসরাইলে প্রায় পাঁচ শতাংশ সামরিক ব্যয় কমেছে। যদিও ২০২২ সালের তুলনায় ইসরাইলি সামরিক ব্যয় এখনো ৯৭ শতাংশ বেশি। এদিকে তুরস্কে সামরিক ব্যয় বেড়েছে সাত দশমিক দুই শতাংশ।

আরও পড়ুন:

২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক খাতে ব্যয়

ইসরাইল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, ইরান ৮ বিলিয়ন ডলার ও তুরস্ক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

ওশেনিয়া এবং এশিয়া অঞ্চলে সামরিক ব্যয় সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার কোটি ডলারে। যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। এ অঞ্চলের মূল চালিকা শক্তি চীন। তিন দশক ধরেই সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে দেশটি।

২০২৫ সালে এশিয়ায় সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি

চীনে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ, জাপানে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ৯.৭ শতাংশ, তাইওয়ানে ব্যয় বৃদ্ধি ১৪ শতাংশ, ভারতে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ৮.৯ শতাংশ ও পাকিস্তানে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ১১ শতাংশ।

২০০৯ সালের পর বিশ্বের মোট জিডিপির অনুপাতে সামরিক খাতে ব্যয় চলতি বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সূচক বার্তা দিচ্ছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় অস্ত্র কেনার হিড়িক পড়েছে দেশে দেশে।

এসএস