বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল, তবে এখন তা ধীরে ধীরে কমছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তিটি সই করা যাবে কি না, তা দেখতে প্রজেক্ট ফ্রিডম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।’ তবে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বজায় রাখতে দেশটির বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়ার ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্যাক্সোর কৌশলবিদ চারু চানানা মনে করেন, প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা একটি লক্ষণ যে ওয়াশিংটন কূটনীতিকে আরও একটি সুযোগ দিতে চায়। তবে এটি এখনো বড় কোনো মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রাথমিক অভিযান শেষ হয়েছে, কারণ ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তির পথই বেছে নিতে চাই। প্রেসিডেন্ট নিজেও একটি চুক্তি করতে বেশি আগ্রহী।’
রুবিওর এই মন্তব্যের বিষয়ে ইরান এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ এর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা ভালো করেই জানি বর্তমান অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করা আমেরিকার জন্য অসম্ভব, যেখানে আমরা কেবল শুরু করছি।’





