ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল। ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পহেলগাম এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ভারত হামলার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপায়, ইসলামাবাদ সেটি অস্বীকার করে। ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিন্ধুর’ শুরু করে পাকিস্তান ও পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভেতরে হামলা চালায়। পাকিস্তান পাল্টা জবাব দেয় ‘অপারেশন বুনিয়ান আল-মারসুস’-এর মাধ্যমে।
সংঘাতের প্রথম রাতেই পাকিস্তানের চীনা তৈরি জে-১০সি জঙ্গিবিমান ভারতীয় রাফাল ধ্বংস করে, যা পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক সুবিধা এনে দেয়। ভারতের দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহান পরে সিঙ্গাপুরে স্বীকার করেন যে প্রথম দিনেই বিমান ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে সংখ্যা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
ভারতও উল্লেখযোগ্য ফলাফল দাবি করেছে। ব্রাহমোস দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাওয়ালপিন্ডির নুর খান, সিন্ধের ভোলারিসহ একাধিক পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ভারত। ইসরাইলি ড্রোন করাচি ও লাহোর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এছাড়া ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত ঘোষণা করে, যা পাকিস্তানের কৃষি খাতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুই পক্ষের দাবিকৃত ‘জয়’-এর আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা রয়ে গেছে। পাকিস্তানের চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এইচকিউ-৯বি ব্রাহমোস ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এখন দীর্ঘপাল্লার এইচকিউ-১৯ ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে পাকিস্তান ফাতাহ-৩, ফাতাহ-৪ ও ফাতাহ-৫-সহ একাধিক নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। সামরিক বাজেটও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫৫ লাখ কোটি পাকিস্তানি রুপি করা হয়েছে।
কিন্তু অস্ত্র-শস্ত্র বাড়ানোর পাশাপাশি মৌলিক সমস্যাও রয়ে গেছে। সিডনিভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মুহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘পরবর্তী সংঘাতে ভারত পাকিস্তানের প্রচলিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা আঘাতের মুখে পড়তে পারে। তবে এই ক্ষমতা বাস্তবে কার্যকর করতে হলে শক্তিশালী আশ্রয়কেন্দ্র ও দ্রুত রানওয়ে মেরামত সক্ষমতাও দরকার।’
পানি নিয়েও গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রেখেছে, যা পাকিস্তানের কৃষিজমির ৮০ শতাংশেরও বেশি পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ২৪ কোটির বেশি মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করে। পাকিস্তানের কার্যকর পানি সংরক্ষণ ক্ষমতা মাত্র ৩০ দিনের, ভারতের ১২০ থেকে ২২০ দিনের।
কূটনৈতিকভাবেও সংঘাতের প্রভাব গেছে দূর পর্যন্ত। পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পরে ইরান সফর করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধে কেন্দ্রীয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। ওদিকে ভারত দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয়ভাবে হয়েছে, ট্রাম্পের ভূমিকা নেই।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ দন্থি বলেন, ‘পারস্পরিক অবিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের অভাবে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।’ ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা সি উদয় ভাস্কর সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি যদি ফের উত্তপ্ত হয়, তবে তা খুব দ্রুত ঘটবে। তাই দুই দেশেরই নিরব কূটনৈতিক যোগাযোগ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের পথ প্রস্তুত রাখা দরকার।





