বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক, আলোচনায় তাইওয়ান ও শুল্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং
বিদেশে এখন
2

ইরান যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই এক হাই-প্রোফাইল সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে আজ (বুধবার, ১৩ মে) সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছাবেন তিনি। ২০১৭ সালের পর এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। এই সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মূলত তাইওয়ান ইস্যুতে বড় কোনো ছাড় এবং মার্কিন শুল্ক কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শি জিনপিংয়ের কাছে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও অগ্রাধিকারমূলক ইস্যু হলো তাইওয়ান। বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করলেও ওয়াশিংটন ১৯৭৯ সালের ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী দেশটিকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক ফোনালাপে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট করেছেন যে সম্মেলনে তাইওয়ান ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে। ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসও তাইওয়ানকে ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাইওয়ানের জন্য বরাদ্দ করা ১৪ বিলিয়ন ডলারের ঝুলে থাকা অস্ত্র চুক্তিতে ট্রাম্প অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে বেইজিং উদ্বিগ্ন। ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং আল জাজিরাকে বলেন, ‘শি জিনপিং ট্রাম্পকে এই অস্ত্র বিক্রি কমানো বা পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন।’ ট্রাম্প যদি এতে রাজি হন, তবে তা হবে কয়েক দশকের মার্কিন নীতির এক বড় পরিবর্তন।

তাইওয়ান ছাড়াও দুই দেশের মধ্যকার অম্লমধুর বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঠিক করা শি জিনপিংয়ের আরেকটি বড় লক্ষ্য। গত ১৮ মাসে ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছেন, যেখানে অনেক পণ্যে শুল্কের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। বেইজিং চায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ে যেন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা দূর হয়। এর বিনিময়ে চীন মার্কিন কৃষিপণ্য ও বোয়িং বিমান কেনা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

এদিকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ এই সম্মেলনের ওপর ছায়া ফেলবে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকটে চীন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বেইজিং বরাবরই সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন যে এই সংঘাত নিরসনে তার চীনের ‘সহায়তা’ প্রয়োজন নেই, তবে হোয়াইট হাউস চায় চীন যেন ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করে। সি চিন পিং এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এএম