আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির (আইআরসি) স্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. মেসফিন তেক্লু টেসেমা সতর্ক করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত যে সংখ্যা জানা যাচ্ছে তা সম্ভবত ‘হিমশৈলের চূড়া’ মাত্র। অর্থাৎ প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি জানান, কঙ্গোর স্বাস্থ্য অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এবং ইতুরি প্রদেশের সীমান্ত দিয়ে মানুষের ব্যাপক যাতায়াত থাকায় ভাইরাসটি দক্ষিণ সুদানেও ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্লাভস, মাস্ক ও চশমার মতো মৌলিক সুরক্ষা সরঞ্জামেরও তীব্র অভাব রয়েছে।
কঙ্গো ও উগান্ডার বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের জীবনরহস্য বা জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করে জানিয়েছেন, কোনো সংক্রমিত পশুর সংস্পর্শ থেকে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে এবং এরপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে। বর্তমানে যে বুন্দিবুগিও স্ট্রেনটি পাওয়া গেছে, তার কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সাধারণত জাইর স্ট্রেনের জন্য ব্যবহৃত টিকাগুলো এই ধরনে কার্যকর কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
ইতুরি প্রদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি অ্যান আনসিয়া বলেন, ‘আমার মনে হয় না দুই মাসের মধ্যে এই প্রাদুর্ভাব থামানো যাবে।’ তিনি ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কঙ্গোর ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উগান্ডা সরকার ইতিমধ্যে হ্যান্ডশেক ও কোলাকুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং একটি বড় ধর্মীয় উৎসব বাতিল করেছে। রুয়ান্ডা তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিলেও ডব্লিউএইচও অন্যান্য দেশকে এখনই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার অনুরোধ করেছে।
কঙ্গোর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান সশস্ত্র সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। গত দুই মাসে সংঘাত তীব্র হওয়ায় ১ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, বাস্তুচ্যুত মানুষের এই চলাচল ভাইরাসটিকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা আগে থেকেই কলেরা, ম্যালেরিয়া ও পুষ্টিহীনতার মতো সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তার ওপর ইবোলার এই আঘাত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডব্লিউএইচও ইতিমধ্যে কঙ্গোতে ৪০ জন বিশেষজ্ঞ এবং ১২ টন চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।





 Andoni Iraola, Ryan Mason, and Xabi Alonso-320x167.webp)