ল্যাভরভ জানান, দুই দেশের এই সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং একে অপরের সার্বভৌম স্বার্থের স্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সহযোগিতা এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া এখন চীনে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে শীর্ষ দেশ। আমরা সম্প্রতি পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২ পাইপলাইন নির্মাণের চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছি।’ এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ, মহাকাশ গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তিতেও দুই দেশ একে অপরকে সহায়তা করছে। পশ্চিমাদের দেয়া ‘অবৈধ ও কৃত্রিম’ বাধা মোকাবিলায় চীনের প্রযুক্তি রাশিয়াকে বড় ধরনের সাহায্য করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ল্যাভরভ দাবি করেন, ২০২৬ সালে রুশ বাহিনী এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি এলাকা দখল করেছে, যার মধ্যে ৩৫টিই দখল করা হয়েছে গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে। ইউক্রেন ও তাইওয়ান ইস্যুর মধ্যে মিল খুঁজে পেয়ে তিনি বলেন, ‘উভয় দেশই বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধী।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে চীন আমাদের ভালো বুঝবে, কারণ তাইওয়ানও চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’ ল্যাভরভ অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন তাইওয়ানকে সমরাস্ত্রে সজ্জিত করে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিরোধিতাকারীদের উসকানি দিয়েছে।
ল্যাভরভ আরও দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনই একমাত্র মার্কিন নেতৃত্ব যারা ইউক্রেন সংকটের ‘মূল কারণ’ বুঝতে পেরেছিল। বিশেষ করে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতা এবং বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেয়ার বিষয়ে ট্রাম্প নমনীয় ছিলেন। তবে ইউরোপীয় নেতা এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হতে উসকানি দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেন ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে চীনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে। তবে মস্কো এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে বলে জানান ল্যাভরভ।





