যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রাণ হারানো সন্তানদের স্মরণে ইরানের আকাশে-বাতাসে শোকের মাতম

নিহত শিশুদের পরিবারের আর্তনাদ
বিদেশে এখন
0

ইরানের মিনাব শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রাণ হারানো স্কুল শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েদের কাছে ঈদ আজ আর কোনো বিশেষ দিন নয়। কোরবানির আগের রাতে শহরের প্রধান কবরস্থানে তাই শোকের মাতম। স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীর বাবা-মায়ের কান্নার ভারী মিনাবের আকাশ-বাতাশ।

মাত্র ৩ মাস আগে যে মায়ের কোল খালি হয়েছে, যে বাবা আর শুনতে পান না আদুরে মেয়ের ডাক, তাদের কাছে ঈদ কোনো বিশেষ উপলক্ষ নয়। সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে কাটানো আরেকটি দুর্বিসহ দিন মাত্র।

বলছিলাম ইরানের মিনাব শহরের কথা। গেল ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ এই মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবাহ গার্লস স্কুলে হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের। একধাক্কায় প্রাণ যায় দেড় শতাধিক মানুষের। নিহতদের শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল কোমলমতি স্কুলপড়ুয়া ছাত্রী।

মিনাব শহরের কবরস্থানটি এখন নিহত ওই শিশুদের শেষ ঠিকানা। ঈদের আগে রাতে এখানে জড়ো হয়েছেন নিহত স্কুলপড়ুয়াদের হতভাগ্য বাবা-মায়েরা। উৎসবের আগের রাতে সন্তানের কবরের পাশে বসে ছিলেন কেউ কেউ।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘এদের মধ্যে অনেকেরই আর দ্বিতীয় কোনো সন্তান নেই। তারা জানেন না এ ক্ষতি পূরণ হবে কীভাবে। জানেন না কোন অপরাধে প্রাণ গেছে তাদের সন্তানের।’

আরেক সন্তানহারা মায়ের ভাষ্য, প্রতিদিন দুইবার ছুটে আসেন এ কবরস্থানে। এখনও মানতে পারছেন না তার শিশু আর জীবিত নেই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ হামলায় আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বৈশ্বিক পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ২ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে চীন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে। পেন্টাগন যদিও একে দুর্ঘটনাজনিত ভুল বা গোয়েন্দা তথ্যের বিভ্রাট হিসেবে ইঙ্গিত দিয়ে তদন্ত শুরু করলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনো হামলার দায় পুরোপুরি স্বীকার করেনি।

এফএস