ঈদের ছুটি থাকা সত্ত্বেও আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২৭ মে) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও জানান, এই ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং দোষী ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘সাফোকেটিভ পরিবেশ আমরা পেয়েছি। ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিবে। মৃতের সংখ্যা ৬ জন, যদি এর বাইরেও মৃত্যুর সংখ্যা ঘটে থাকে সেটি তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ড থেকে এনআইসিউতে স্থানান্তরের যে অন্তর্বর্তীকালীন ধাপটি রয়েছে, সেখানে দুর্বলতা নজরে এসেছে। ওই সময়ে চিকিৎসকেরা যদি এসে তাৎক্ষণিক সেবা দিতেন, তবে হয়তো পরিস্থিতি আরও ত্বরান্বিত করা যেত। হাসপাতালে ভর্তি থাকা বাকি শিশুদের চিকিৎসায় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকেও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
এছাড়া অনেক পরিবার ময়নাতদন্তে ইচ্ছুক নন, তবে ময়নাতদন্ত না হলেও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন বা তদন্ত শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি সিলগালা করে দেয়া হবে। এছাড়া আপাতত হাসপাতালটির এনআইসিইউ ও আইসিইউ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা জটিলতায় আমাদের মনে হয়নি মারা গেছে, টেকনিক্যাল জটিলতা মনে হয়েছে। আপাতত হাসপাতালের এনআইসিইউ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পোস্ট অপারেট ওয়ার্ড সিলগালা করা হবে।’
এ ব্যাপারে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, ‘আদ-দ্বীন হাসপাতালে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করছি।’
অবহেলার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়। তদন্ত করে শিশু মৃত্যুর কারণ বের করা হবে।’
এদিকে, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ওয়ার্ডটি বন্ধ করে তদন্ত করছে সিআইডির টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম। এছাড়া চিকিৎসাজনিত জটিলতা নয়, বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


 leader Abhijeet Dipke and AISA chief Neha Bora-320x167.webp)


