শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার ধূমপানের মতোই বিপজ্জনক; ব্রিটিশ চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

স্মার্টফোন ব্যবহার করছে শিশুরা
বিদেশে এখন
0

শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার ধূমপানের মতোই বিপজ্জনক। রয়টার্সকে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা। ব্রিটেনের আইন প্রণেতাদের প্রতি তাদের বার্তা, তরুণদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে বিরত রাখতে না পারলে মানসিক ক্ষতি ছাড়াও জীবনবিমুখ হয়ে পড়বে গোটা একটি প্রজন্ম।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর একই পথে হেঁটেছে ফ্রান্স। চীনে ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য দৈনিক মাত্র ৪০ মিনিট সামাজিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বেশ কয়েকটি স্টেটে নিজস্ব আইনে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা, মা-বাবার অনুমতি ইত্যাদি বিধান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা অথবা স্ক্রিন টাইম ও অ্যাপের ফিচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের চূড়ান্ত পরিকল্পনা আছে যুক্তরাজ্যেরও। এমন পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্যকর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। সেখানে বলা হচ্ছে শীর্ষ স্থানীয় ব্রিটিশ চিকিৎসকদের দাবি, শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার ধূমপানের মতোই বিপজ্জনক।

আরও পড়ুন:

অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের একটি পরামর্শমূলক সভায় মেডিকেল কলেজগুলোর সম্মিলিত শাখা ‘অ্যাকাডেমি অব মেডিকেল রয়্যাল কলেজেস’ শিশুদের ওপর সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে। সেখানেই এই বার্তা দেন শীর্ষ চিকিৎসকরা।

যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের ২৩টি রয়্যাল মেডিকেল কলেজ ও ফ্যাকাল্টির প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থাটি জানায়, প্রযুক্তি ও ডিভাইসের অবাধ ব্যবহার বর্তমানে শিশু এবং তরুণদের স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব ফেলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর কোনো বিষয়ে চিকিৎসকরা এতটা উদ্বেগে পড়েননি।

জরিপ পরিচালনাকারী ১৩২ জন চিকিৎসকের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জানিয়েছেন, তারা প্রতি সপ্তাহে এমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখছেন যা প্রযুক্তি ও ডিভাইসের সাথে সম্পর্কিত। এক-তৃতীয়াংশের বেশি চিকিৎসক সপ্তাহে একাধিকবার এ ধরনের সমস্যার প্রমাণ পাচ্ছেন।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যম সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে অবৈধ ও ক্ষতিকারক অনলাইন কনটেন্ট থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সরকার এর চেয়েও আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত। আর, লন্ডনের একদল তরুণ সম্প্রতি রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা এই ধরনের বিধিনিষেধের বিপক্ষে।

এফএস