গত এপ্রিলে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছেন। একই সঙ্গে এই জোটের ওপর নিজের বিরক্তির কথাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
তবে গত ২০ মে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভিন্ন সুরেই কথা বলেছেন। তিনি জানান, সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি আঙ্কারা সফর করবেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সপ্তাহান্তে জানান, গত এক মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের কয়েকবার কথা হয়েছে। তবে কোনো ফোনালাপেই ট্রাম্প সম্মেলনে না যাওয়ার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ চলার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আশা করছেন এরদোয়ান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, তুরস্কের জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে এরদোয়ান প্রায়ই ফুটবল মাঠে যেতে পছন্দ করেন। তিনি যদি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান, তবে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে একসঙ্গে খেলা দেখার চেষ্টা করতে পারেন। তবে এই সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে এরদোয়ান ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টও পাল্টা হিসেবে তুরস্ক সফরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প তার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প তার খামখেয়ালি আচরণের জন্য পরিচিত এবং এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মিডল ইস্ট আই।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্প মিশ্র সংকেত দিচ্ছেন। ইউরোপ থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় তিনি পোল্যান্ডে একই সংখ্যক সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন।
এদিকে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন। এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘তিনি যদি আসেন, তবে বিশৃঙ্খলা ও বাগবিতণ্ডা হতে পারে। তবে তিনি না এলে তা এই জোটের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হবে।’
অন্যান্য ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই সম্মেলন গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা ইউরোপকে বাইরের হুমকি থেকে আর সুরক্ষা দেবে না।
আরও পড়ুন:
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ও অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা আটলান্টিক-পারের নিরাপত্তায় এই জোটের গুরুত্ব সম্পর্কে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের অধীনে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা একটি অবধারিত পরিণতির দিকে এগোতে পারে। এই অবস্থায় আয়োজক দেশ হিসেবে তুরস্ক এবং অন্যান্য মিত্রদের সবচেয়ে বড় কাজ হবে, ইউরোপ থেকে হঠাৎ করে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বদলে একটি পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা নেয়ার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করা।
এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, ‘আমাদের এমন একটি নতুন কাঠামো দরকার, যা ট্রাম্পের ইচ্ছার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তার চাহিদাও মেটাবে। তবে এতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।’





