অর্থসংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সীমিত’ চুক্তিতে আগ্রহী ইরান: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
বিদেশে এখন
0

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘সীমিত অন্তর্র্বর্তী চুক্তির’ জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরমাণু কর্মসূচিতে বড় কোনো ছাড় না দিয়েই মূলত আর্থিক স্বস্তি পাওয়া এবং সময়ক্ষেপণ করাই তেহরানের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহলের ঘনিষ্ঠ তিনটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, এটি ইসলামিক রিপাবলিকের একটি পরিচিত কৌশল—চাপ সহ্য করা, কোনো স্থায়ী আপস এড়িয়ে যাওয়া এবং মূল অবস্থানে অনড় থেকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। কর্মকর্তারা মনে করছেন, একটি ছোটখাটো চুক্তি হলে তা বড় কোনো বিবাদে না জড়িয়েই স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতিতে অর্থের জোগান নিশ্চিত করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বিশ্বের তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। এপ্রিলের শুরু থেকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ উভয় পক্ষকেই চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে রেখেছে।

এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আশা না করে একটি ‘অস্থায়ী সমঝোতা স্মারক’ বা অন্তর্র্বর্তী চুক্তির পথ খুঁজছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়িয়ে পরমাণু ইস্যুর মতো বির্তকিত বিষয়গুলোকে ভবিষ্যতের জন্য তোলা রাখা সম্ভব হবে।

ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স ভাটানকা বলেন, ‘ইরানি নেতারা বুঝতে পারছেন যে সময় তাদের পক্ষে নেই। তারা মনে করছেন, অর্থনৈতিক অবক্ষয় ও অনিশ্চয়তার চেয়ে সীমিত আলোচনা অনেক ভালো।’

তেহরানের জন্য এই চুক্তির মানে হলো—লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে শত্রুতা বন্ধ করা, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া। বিনিময়ে তারা পরমাণু সমৃদ্ধকরণের মতো স্পর্শক্ষম বিষয়গুলোতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়া থেকে বিরত থাকতে চায়।

অভ্যন্তরীণ চাপও এই চুক্তির পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, অব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফলে ইরানে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার মান চরমভাবে নিচে নেমে গেছে। সূত্রগুলো বলছে, তড়িঘড়ি করে কিছু অর্থ হাতে পাওয়া তেহরানের জন্য এখন জরুরি, যাতে জনরোষ ঠেকানো যায়। এর আগে জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল ইরান সরকার।

বার্লিনের ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’-এর গবেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, ‘এই সমঝোতা অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে সরকারের শাসনক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে।’

সবকিছুর মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরানি নীতিনির্ধারকেরা এখন এই পথটিকে কেবল দরকষাকষির হাতিয়ার নয়, বরং একটি স্থায়ী কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছেন। এক ইরানি সূত্র বলেন, ‘একটি সীমিত চুক্তি হলে ইরানকে ওয়াশিংটনের সব দাবি মানতে হবে না, অথচ তারা যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে। মূলত যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো একটি উপহার দিয়ে দিয়েছেন।’

এএম