‘পারসিপোলিস’ খ্যাত ফরাসি-ইরানি লেখক ও নির্মাতা মারজান সাত্রাপি মারা গেছেন

মারজান সাত্রাপি
বিনোদন
বিদেশে এখন
0

বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পারসেপোলিস’-এর রচয়িতা এবং অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র নির্মাতা মারজান সাত্রাপি মারা গেছেন। ৫৬ বছর বয়সী এই ফরাসি-ইরানি শিল্পীর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এএফপি বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মারজান সাত্রাপির পরিবার ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, গত বছর স্বামী ম্যাথিয়াস রিপার মৃত্যুর পর থেকে তিনি চরম ‘বিষণ্নতায়’ ভুগছিলেন এবং সেই শোক থেকেই তার মৃত্যু হয়েছে।

মারজান সাত্রাপির স্বামী সুইডিশ প্রযোজক ম্যাথিয়াস রিপা গত বছরের ৮ এপ্রিল মারা যান। এরপর সাত্রাপি তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমি আমার জীবনের ভালোবাসাকে হারিয়েছি।’

সাত্রাপির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ‘মারজান ছিলেন এক মহান শিল্পী, যিনি তার ইরানি শৈশবকে একটি বিশ্বজনীন উপাখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তার শিশুতোষ দৃষ্টিভঙ্গি, বিদ্রূপ, মমতা এবং ভেতরের সংগ্রাম দিয়ে তিনি এমন এক জগত তৈরি করেছিলেন যা পাঠকদের গভীরভাবে স্পর্শ করতো।’

১৯৬৯ সালে ইরানের রেশত শহরে জন্ম নেয়া মারজান তেহরানে বড় হন। পরে ইসলামি বিপ্লবের বিধিনিষেধ থেকে বাঁচতে তার বাবা-মা তাকে পড়াশোনার জন্য ইউরোপে পাঠিয়ে দেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ফ্রান্সে বসতি স্থাপন করেন এবং ২০০৬ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। তিনি আজীবন ইরানের কট্টর শাসনব্যবস্থার কড়া সমালোচক ছিলেন।

২০০০ সালে প্রকাশিত তার গ্রাফিক নভেল ‘পারসেপোলিস’ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সাড়া জাগায়। এতে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানের টালমাটাল পরিস্থিতি এবং একটি কিশোরীর বেড়ে ওঠার গল্প ফুটে উঠেছে। বইটি কোটি কোটি কপি বিক্রি হয় এবং এটি নিয়ে নির্মিত অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রটি অস্কারে মনোনীত হয়। সাত্রাপিই প্রথম নারী যিনি সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ক্যাটাগরিতে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

সাত্রাপি মনে করতেন, তার কাজগুলো ইরানি তরুণদের এই বার্তা দেয় যে বিশ্ববাসী তাদের কথা শুনছে। ২০১২ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আঁকা বা চিত্রকর্ম হলো মানুষের প্রথম ভাষা—যা লেখা, বলা এমনকি শব্দেরও আগে এসেছে।’ ২০১৪ সালে তিনি ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ শিরোনামে একটি যৌথ কাজ সমন্বয় করেন, যা মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল।

ফরাসি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, ‘পারসেপোলিসের মাধ্যমে মারজান ইরানি বিপ্লবকে একটি কণ্ঠস্বর দিয়েছিলেন। তিনি গর্বের সাথে নারী অধিকার ও মর্যাদার লড়াই চালিয়ে গেছেন। ফ্রান্স এক মহান শিল্পীকে হারালো।’

এএম