তিন মাসের যুদ্ধও দমানো যায়নি ইরানের পরমাণু প্রকল্প; নতুন তথ্য দিলো আইএইএ

ইরানের নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনা
বিদেশে এখন
0

ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে গত তিন মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ চালালেও তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গিয়েছে।


গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করার পর এই প্রথম দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করলো আইএইএ। আজ (বৃহস্পতিবার, ৪ জুন) সংস্থাটির ৩৫ জাতি বোর্ড অব গভর্নরসের ত্রৈমাসিক সভার আগে প্রতিবেদনটি সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে আগের বছরের তুলনায় তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতার মূল্যায়নে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

সংস্থাটি আবারও তেহরানের কাছে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে। গত বছরের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের পর থেকেই এই ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এই যুদ্ধ শুরু করার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করার কথা বারবার বলেছিলেন।

বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক আলোচনা চলছে, সেখানেও এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প দাবি করছেন ইরানকে এই মজুত পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। তবে আপাতত পরমাণু ইস্যুটি সরিয়ে রেখে কেবল যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার দিকেই দুই পক্ষ বেশি জোর দিচ্ছে।

আইএইএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছর ধরে সংস্থাটি ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করতে পারেনি। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম—যা কি না পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার খুব কাছাকাছি—তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ইরান এখনো আইএইএ-কে কিছু জানায়নি।

আইএইএ প্রধান জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের জন্য এনপিটি (পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি) সেফগার্ডস চুক্তি কার্যকর করা এখন অপরিহার্য এবং জরুরি। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, দীর্ঘদিন তদারকি করতে না পারায় তারা আগের মজুত করা পারমাণবিক উপকরণ সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য বা ‘কন্টিনিউটি অব নলেজ’ হারিয়ে ফেলেছে। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এএম