অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে একবার দীর্ঘ আলোচনা হয়। এরপর শর্ত-পাল্টা শর্ত নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই বেশ কয়েকবার পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়ায় দু'দেশ। এমন উত্তপ্ত আবহে ইরানে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে বাধ্য করতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়। এরপরই ইরানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শেষ হয়ে গেছে এবং মার্কিন বাহিনী আর ইরানে হামলা করছে না বলেও দাবি করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
কিন্তু বাস্তবতা হলো; যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০০ দিনেও অধরা রয়ে গেছে ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি চুক্তি। এরইমধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের বরাতে এমন খবর প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। চলতি সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আরও পড়ুন:
এরমধ্যেই, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তুলে নিতে বিশেষ অভিযান পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। তবে দেশটিতে কোনোভাবেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকতে পারবে না বলেও সাফ জানান তিনি। আর চুক্তি সই হলে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ফের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। একই সময় যুদ্ধ ক্ষমতায় লাগাম টানা আইনপ্রণেতাদের দেশাত্মবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি আমরা খুব ভালো এগোচ্ছি। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। তবে যেকোনোভাবেই হোক আমরা জয়ী হবো, সেটা হোক কাগজে-কলমে অথবা সামরিকভাবে।
এই যখন অবস্থা তখন, লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনাদের সরিয়ে না নিলে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুতেই শান্তি ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছে আইআরজিসি। এছাড়াও, ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় সহযোগিতার জন্য ফের সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অভিযুক্ত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাতের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন তিনি।
এদিকে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দ্রুতই একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সময় পারমাণবিক খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা স্মারক সই করেছে ইরান ও রাশিয়া।





