পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বুধবার জানিয়েছেন, ‘পরিকল্পিত অভিযানে’ চারটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে এবং এতে ২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার আগেভাগেই জানিয়েছিল যে, তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
আফগান ভূমি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানের মাটিতে হামলা চালাচ্ছে—ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ করে আসলেও তালেবান সরকার তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষে শত শত মানুষের মৃত্যুর পর এটিই প্রথম বড় সংকলিত হামলা। উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ‘পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাবে সীমান্তের গোপন আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও একটি গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্রও ছিল। তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান সব সময় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। তবে একই সঙ্গে আমাদের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’
অন্যদিকে, তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, কুনার, খোস্ত ও পাক্তিকা প্রদেশে লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘এই হামলায় ১১ শিশু, একজন নারী এবং একজন বয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।’ আফগান সরকার বারবার দাবি করে আসছে যে, তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো কাজে ব্যবহৃত হতে দেয়া হচ্ছে না।
ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ লড়াইয়ের পর থেকে সীমান্তে মাঝেমধ্যেই বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব নেতারা দুই দেশকেই সংঘাত বন্ধ করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।





