ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তিতে সম্মত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দর। ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণ ও স্টক মার্কেটে শেয়ারে দর।
তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই শান্তিচুক্তি আদৌ চূড়ান্ত রূপ দেখবে কি-না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কেননা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে অস্থির করে তুলতে খলনায়কের ভূমিকায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তাকে ছাড়াই তেহরান ও ওয়াশিংটন শান্তিচুক্তি কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা দেখার বিষয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অন্যতম শর্ত লেবানন ও গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আগ্রাসন বন্ধ করা। যদিও ইসরাইলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে মেলেনি কোন সবুজ সংকেত।
এর আগেও বৈরুত থেকে ইসরাইলকে সেনা প্রত্যাহার করে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করলে তাতে সম্মত হননি তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে এমনকি গালাগালি করেন ট্রাম্প। হুঁশিয়ারি দেন জেলে পাঠানোর। এমনকি গেলো রোববারও বৈরুতে হামলা চালিয়েছে আইডিএফ।
নেতানিয়াহু যদি ট্রাম্পের কথা না শোনে তবে সব ধরণের মার্কিন সহায়তা বন্ধের পরামর্শ দেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাস দমন কেন্দ্রের সাবেক প্রধান জো কেন্ট। এমনকি ইরানের সঙ্গে চুক্তি টিকিয়ে রাখতে তেল আবিবকে দেয়া সব ধরণের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধেরও পরামর্শ তার।
লেবানন ইস্যুতে সংকট ছাড়াও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন ও তেহরান। গেলো রোববার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র কখনই মেনে নেবে না। এতেই প্রশ্ন জাগে, গুরুত্বপূর্ণ এ ইস্যুতে আদৌ দু'পক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে কি-না?
এদিকে, শান্তিচুক্তির খসড়া প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই ও আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় নিয়েছে উভয়পক্ষ। তবে শর্তভঙ্গ করে ইরানকে যদি তাদের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পথ থেকে সরে আসতে বলা হয়, তেহরান তা কোনভাবেই মানবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বিপুল সংখ্যক ট্যাংকার খালি করা, মাইন অপসারণ এবং নিয়মিত তেল পরিবহন ও উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।





