ইউক্রেনের সরকার গত মাসের শেষ দিকে একটি সামরিক ইউনিটের নাম রেখেছে ‘ইউক্রেনিয়ান ইনসারজেন্ট আর্মির (ইউপিএ) নায়কেরা’। পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভ্রোস্কি এই সিদ্ধান্তকে ‘ন্যক্কারজনক’, ‘দুর্বোধ্য’ এবং ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই কূটনৈতিক বিরোধ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি পোল্যান্ডের সমর্থনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ওয়ারশর এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে ‘একটি কৌশলগত ভুল’ এবং ‘অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউক্রেনের অনেকে ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে সক্রিয় ইউপিএকে নায়ক হিসেবে বিবেচনা করেন। তাদের মতে, এই বাহিনী সোভিয়েত লাল ফৌজ, নাৎসি জার্মানি এবং পোলিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল। তবে পোল্যান্ড অভিযোগ করে আসছে, ইউপিএ ১৯৪৩-৪৫ সালে ভলহিনিয়ায় (বর্তমান ইউক্রেনের ভলিন) জাতিগত পোলদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নাভ্রোস্কি বলেন, ‘পোলিশ সমাজের অধিকাংশের কাছে ইউপিএ এমন একটি বাহিনী হিসেবে রয়ে গেছে, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রজাতন্ত্র পোল্যান্ডের নাগরিকদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধ চালানোর জন্য দায়ী। তাই ইউপিএকে গৌরবান্বিত করার ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ন্যাক্কারজনক, দুর্বোধ্য এবং অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি কেবল আমাদের ঐতিহাসিক স্মৃতিকেই আঘাত করছে না, বরং বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা আস্থাকেও ক্ষুণ্ন করছে।’
পোলিশ প্রেসিডেন্ট ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর পোল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থীর কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের ইউরোপীয় কাঠামোয় প্রবেশের পথের জন্য তার নিজের ইতিহাসের কঠিন অধ্যায়গুলো সততার সঙ্গে মোকাবিলা করার ইচ্ছা থাকতে হবে।’ ইউক্রেন বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছে এবং চলতি সপ্তাহে লুক্সেমবার্গে সদস্যপদ আলোচনার প্রথম পর্বে অংশ নিয়েছে।
কিয়েভ ও ওয়ারশর মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট টাস্ক বলেন, এই বিরোধ রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘খুশি করে’। তিনি জেলেনস্কি ও নাভ্রোস্কিকে ‘উত্তেজনা না বাড়িয়ে আবেগ শান্ত করার’ আহ্বান জানান।
২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা জেলেনস্কিকে ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ পদকে ভূষিত করেছিলেন। এই বিতর্ক নিয়ে জেলেনস্কি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিহা বলেছেন, ‘এটি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের একটি কৌশলগত ভুল, যা থেকে কেবল মস্কোই লাভবান হবে।’ প্রতিক্রিয়ায় তিনি ২০২২ সালে পোল্যান্ড থেকে পাওয়া তার একটি পদকও ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সিবিহা বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট আমাদের ইতিহাস আমাদের শেখাবেন না।’





