হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-রুটে বৈঠক; জুলাইয়ের সম্মেলন নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

বিদেশে এখন
0

আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের আগে জোটের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা প্রশমনে আজ (বুধবার, ২৪ জুন) হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জোটের মহাসচিব মার্ক রুট। ইরান যুদ্ধ এবং ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকির মুখে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরেই ন্যাটোর কড়া সমালোচক এবং তিনি এই জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে বা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে ন্যাটোর অনীহা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। এরই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত সপ্তাহে মিত্রদের ‘বিনামূল্যে সুবিধাভোগী’ বলে তিরস্কার করেছেন এবং ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন সেনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মার্ক রুটের অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের এই বৈরী মনোভাব সামলানো।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো স্টিফেন ওয়ের্থেইম বলেন, ‘আমি মনে করি রুট চেষ্টা করছেন ট্রাম্পের সঙ্গে একই অবস্থানে আসতে, যাতে জুলাইয়ের সম্মেলনটি সফল হয়। কিন্তু ট্রাম্প যেহেতু খামখেয়ালি, তাই রুট সমঝোতার আশা করলেও দুই সপ্তাহ পর কী হবে তা বলা কঠিন।’ গত কয়েক মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর দূরত্ব বেড়েছে। ট্রাম্পের ইরান অভিযানে মিত্ররা সায় না দেয়ায় তিনি এমনকি ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার এবং জোট ত্যাগ করার হুমকিও দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্ক রুট বলেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেয়ার ঘটনাগুলো ‘বিচ্ছিন্ন’। তিনি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেবেন যে ইউরোপের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি থেকেই শত শত বিমান ওয়াশিংটনের যুদ্ধে সহায়তা করতে উড়াল দিয়েছে। এছাড়া ন্যাটো সদস্যরা তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট অনেক বাড়াচ্ছে এবং বুধবার তিনি সেই ‘বিশাল’ অংকের তথ্য ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরবেন।

আগামী ৭-৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট জানিয়েছেন, সম্মেলনে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সমরাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং ইউক্রেনের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হবে। বর্তমানে এই জোটটি নজিরবিহীন চাপের মধ্যে রয়েছে। অনেক ইউরোপীয় দেশ আশঙ্কা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে, যা ন্যাটোর অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলবে। যদিও গত বছর হেগ সম্মেলনে ন্যাটো নেতারা জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু অনেক দেশই এখনো সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

এএম