লেবানন চুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক, নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

দক্ষিণ লেবানন
বিদেশে এখন
0

যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে খোদ লেবাননই তাদের দক্ষিণাঞ্চলের দখল ধরে রাখতে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন নেতানিয়াহু। যা ইসরাইলের জন্য অন্যতম বিজয় এবং ইরান-হিজবুল্লাহর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি। এদিকে, দক্ষিণ লেবাননেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। শনিবারের হামলায় একজন নিহতের খবর খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ‘ইসরাইল-লেবানন চুক্তি আত্মসমর্পণের সামিল’ আখ্যা দিয়ে এটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে হিজবুল্লাহ।

গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে চুক্তি সইয়ের পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। শনিবারও ঘটেছে হতাহতের ঘটনা। ইরান সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করছে ইসরাইল।

এমন পরিস্থিতিতে লেবাননের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে প্রকৃত শান্তি বা নিরাপত্তা ফিরবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান খোদ উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দারা। এছাড়াও, দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের বাসিন্দারা।

উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘এ চুক্তিটি ঠিক নয়। এটি কোনো সমস্যার সমাধান করছে না। যদি এতে কোনো সমাধান হতো, তাহলে আমরা এর পক্ষে থাকতাম।’

লেবাননের বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘লেবাননে স্থিতিশীলতা ফেরানো, নিরাপত্তা, বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্গঠন নিশ্চিতের লক্ষ্যে হওয়া এই চুক্তিকে সমর্থন করি। পদ্ধতি বা উপায় নিয়ে আমি ভাবি না।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘যে চুক্তিগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আমাদের ইসরাইলি সেনারা হিজবুল্লাহর কিছুই করতে পারে না।’

এমন পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক এক মন্তব্য করে আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। দাবি করেন, ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে খোদ লেবানন সরকারই দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। যার কারণে এই চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য ঐতিহাসিকভাবে সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন নেতানয়াহু।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘কাঠামোগত চুক্তি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন আমাদের নিরাপত্তার জন্য যতদিন প্রয়োজন দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানের বিষয়ে ইসরাইলি সেনাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। হিজবুল্লাহ এবং বাকি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত এবং লেবানন থেকে ইসরাইলে আর কোনো হুমকি না আসা পর্যন্ত আমরা সেখানেই থাকবো।’

আরও পড়ুন:

এখানেই শেষ নয়, লেবানন চুক্তি ইরান এবং হিজবুল্লাহর জন্য বড় ধাক্কা বলেও মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, 'চুক্তিটি ইরান এবং হিজবুল্লাহর ওপর ওপর কঠোর আঘাতের সামিল। আমি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে ছিলাম। দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের জোরালো বিরোধিতা করেছি। অবশেষে লেবানন, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে মূলত ইরানকে বার্তা দিচ্ছে যে, এটা তোমাদের কোনো বিষয় নয়।'

এ অবস্থায় এই চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি হিসেবে দাবি করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম। এছাড়াও, চুক্তিটি ইসরাইলের কাছে লেবাননের আত্মসমর্পণের সামিল আখ্যা দিয়ে এটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণাও দিয়েছেন হিজবুল্লাহ প্রধান।

হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম বলেন, ‘ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় করা কাঠামো চুক্তিটি লেবাননের জন্য অপমানজনক। এটি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। যা ইসরাইলের কাছে নিজেদের সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণের সামিল। এই চুক্তির কোন মূল্য নেই। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের বিধানগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।’

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার কাঠামোগত নিরাপত্তা চুক্তির আওতায়, লেবাননের সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে দেশটির নির্ধারিত 'পাইলট জোনগুলোতে' পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। এতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের বাইরের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করবে লেবানন সরকার। এর মধ্য দিয়ে মূলত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের ইঙ্গিত করা হয়েছে।

গেলো ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে প্রায় ৪ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখেরও বেশি। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায়, ৩৬ ইসরাইলি সেনা এবং চার বেসামরিক ইসরাইলি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এফএস