রাশিয়ার দুই তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর একটি তেল শোধনাগার থেকে ধোঁয়া উড়ছে
বিদেশে এখন
0

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। গত গতকাল (শনিবার, ২৭ জুন) রাতে রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। এই হামলায় অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন বলে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে স্লাভিয়ানস্ক এবং ইয়ারোস্লাভল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। এই স্থাপনা দুটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে যথাক্রমে ৩০০ ও ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘আমরা রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করার অভিযান অব্যাহত রেখেছি। প্রতিটি হামলার অর্থ হলো রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি ও সম্পদের জোগান কমিয়ে দেয়া।’

রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনড্রাতিয়েভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, স্লাভিয়ানস্ক-না-কুবানি শহরের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় ১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইয়ারোস্লাভলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানিয়েছেন, ড্রোনের হুমকির কারণে সাময়িকভাবে শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এছাড়া বেলগোরোদ অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের ৬৪টি ড্রোন হামলার ঘটনায় আরও ১ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস।

রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার খিনশটেইন জানিয়েছেন, তারা ১১৭টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছেন। গত সপ্তাহেই ইউক্রেন ক্রিমিয়ার কার্চ এবং কাভকাজ বন্দরের দুটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যা মূলত রুশ যুদ্ধক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি গুদাম লক্ষ্য করে ইউক্রেনের এই ধারাবাহিক ড্রোন হামলার ফলে দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে যুদ্ধের চার বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মস্কো যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, এই আলোচনা হতে হবে ২০২২ সালের ইস্তাম্বুল বৈঠকের ভিত্তিতে, যেখানে ইউক্রেনকে ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিল রাশিয়া। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিমনের পশ্চিমাঞ্চলে তাদের স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু ইউক্রেনীয় ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে।

এএম