বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ধনকুবের গুও ওয়েনগুইয়ের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

চীনা ধনকুবের গুও ওয়েনগুই
বিদেশে এখন
0

আর্থিক প্রতারণা ও বিপুল অর্থ আত্মসাতের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত চীনা ধনকুবের গুও ওয়েনগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। গতকাল (সোমবার, ২৯ জুন) ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যানালিসা টরেস এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারক জানান, গুওর এই প্রতারণার কারণে বিশ্বজুড়ে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ কোটি কোটি ডলার হারিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এক সময় চীনের অন্যতম শীর্ষ ধনী হিসেবে পরিচিত গুও ওয়েনগুই এক দশক আগে চীন থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। সেখানে নিজেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) কট্টর সমালোচক ও গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরেন। বিচারক টরেস রায়ে বলেন,‘ গুও ওই সব মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন যারা চীনে গণতন্ত্র দেখতে চান। তিনি তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৮৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানা হিসেবে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

২০২৪ সালে একটি জুরি বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে গুওকে জালিয়াতি, সিকিউরিটিজ অপরাধ, মানি লন্ডারিং এবং ইলেকট্রনিক প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। এর আগে ২০২৩ সালে ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্ক সংলগ্ন তার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এফবিআই। শুনানিকালে বিচারক ক্ষতিগ্রস্তদের বেশ কিছু চিঠি পড়ে শোনান, যেখানে তারা তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে চরম উদ্বেগ ও পারিবারিক অশান্তির কথা তুলে ধরেছেন। তবে গুও তার অপরাধ স্বীকার না করে দাবি করেছেন, তার উদ্দেশ্য ছিল সিসিপি-কে ‘ধ্বংস’ করা।

গুও ওয়েনগুইয়ের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তাদের মক্কেল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিহিংসার শিকার। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই কারাদণ্ড চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে বেইজিংয়ের অপচেষ্টাকেই উৎসাহিত করবে।

নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে গুও যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থি নেতা স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২০ সালে স্টিভ ব্যানন যখন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরির তহবিল তছরুপের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তখন তিনি গুওর বিলাসবহুল প্রমোদতরিতেই ছিলেন।

এএম