হরমুজ প্রণালিতে ‘বন্ধু’ দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা: ইরান

হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী ট্যাংকার
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়া জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে সেবা ফি আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দোলরেজা রাহমানি ফাজলি। তবে চীনসহ ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ৬০ দিন কোনো ফি ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে। তবে এই মেয়াদ শেষে কী নীতি কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে কোনো ধরনের মাশুল বা ফি আরোপের অনুমতি দেয়া হবে না।

গতকাল (শনিবার, ৪ জুলাই) বেইজিংয়ে ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত ফাজলি জানান, প্রণালিটি নিয়ে ‘নতুন ব্যবস্থাপনা’ তৈরির লক্ষে ইরান ওমানের সঙ্গে ‘সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের’ ভিত্তিতে কাজ করছে।

ফাজলি বলেন, ‘হরমুজ যেহেতু আমাদের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ, তাই আমরা অবশ্যই সেবা ফি আরোপ করবো।’ তবে এই ফি কোনো ‘মাশুল’ নয় বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাত অনুযায়ী, ফাজলি বলেন, ‘নতুন এই ব্যবস্থাপনা মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চলাচল তদারকি এবং বিপুলসংখ্যক জাহাজের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার জন্য।’

ইরানের সংবাদ সংস্থা নূরনিউজ তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য সেবা ফির পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণে চীন এবং অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রযোজ্য হবে।

শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হতো। গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান এই জলপথ প্রায় বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম হুহু করে বেড়ে যায়। ইরানি তেল রপ্তানি ঠেকাতে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোয় নৌ অবরোধ আরোপ করে।

ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চার মাসব্যাপী যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি এখন ‘নিরাপত্তার’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’’  প্রণালিটি সংক্রান্ত নতুন সব ব্যবস্থা ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। প্রণালির দুই পাশে অবস্থিত ইরান ও ওমান এই কৌশলগত জলপথ পরিচালনায় একটি যৌথ কমিটিও গঠন করেছে।

এএম