ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ প্রতিশ্রুতি’ অটুট: মার্ক রুটে

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে
বিদেশে এখন
0

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে আজ (বুধবার, ৭ জুলাই) বলেছেন, ন্যাটো জোটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ প্রতিশ্রুতি’ অটুট রয়েছে। তবে ইউরোপীয় মিত্র ও কানাডাকে ওয়াশিংটনের সমান পরিমাণে প্রতিরক্ষা ব্যয় করতে হবে বলেও প্রত্যাশা রয়েছে। তুরকিয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে সাংবাদিকদের রুটে বলেন, ‘ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ও কানাডীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমান ব্যয় করবে বলেও একটি প্রত্যাশা রয়েছে, যা আমি মনে করি সম্পূর্ণ ন্যায্য।’

আইজেনহাওয়ারের পর যা কেউ পারেননি, ট্রাম্প তা করেছেন

রুটে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমতা আনতে সফল হয়েছেন। আইজেনহাওয়ারের পর থেকে সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করে গেছেন। সম্মেলনের আগে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশেষে সেই কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন যা আইজেনহাওয়ারের পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা চেষ্টা করে আসছেন, তা হলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমতা আনা।’

রুটে সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনকে ‘একটি বড় সাফল্য’ বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, নতুন চুক্তি ও প্রতিশ্রুতির বড় ঘোষণা এসেছে। জোট এ বছর ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতিমধ্যে ৪ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি। এই অগ্রগতিকে ‘সত্যিই অসাধারণ’ বলে অভিহিত করে এর কৃতিত্ব রাশিয়ার হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্র ও কানাডার ওপর ট্রাম্পের চাপকে দিয়েছেন তিনি।

মস্কোর প্রতি রুটের বার্তা: ‘আমাদের সঙ্গে খেলবেন না’

জোটে ইউরোপকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে রুটে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতি ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি একে ‘ন্যাটো ৩.০’ দৃষ্টিভঙ্গি বলে অভিহিত করেছেন।

রুটে বলেন, ‘ইউরোপ, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১০০ কোটি মানুষের এই জোট আমাদের ভূখণ্ডের প্রতি ইঞ্চি রক্ষা করবে। ন্যাটোর বিরুদ্ধে জেতা যাবে না। আমরা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে আছি। আমরা কখনো কাউকে আক্রমণ করব না। আমরা শুধু আমাদের জীবনযাত্রা, গণতন্ত্র ও ভূখণ্ড রক্ষা করব। তাই আমাদের সঙ্গে চালাকি করবেন না, খেলবেন না।’

তিনি জানান, বুধবার মিত্ররা যৌথভাবে দুটি বিষয় নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা করছেন। প্রথমত, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না এবং দ্বিতীয়ত, নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়াকে ৩২টি মিত্র দেশের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয়’ বলে অভিহিত করেন তিনি। রাশিয়াকে ন্যাটোর ভূখণ্ডের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে বলেও তিনি আশা করছেন।

গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপে সেনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের নতুন আহ্বান ও ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রুটে বলেন, এই প্রতিশ্রুতিতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, ‘ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ন্যাটো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে, বিশেষ করে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন যেন মার্কিন উপকূলে পৌঁছাতে না পারে তা নিশ্চিত করে।

তিনি জানান, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি ভালো প্রক্রিয়া চলছে। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ওপর ট্রাম্পের চাপকে তিনি ট্রাম্পের জয় এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করেন। রুটে আরও বলেন, চীন ও রাশিয়া যেন আর্কটিক অঞ্চলে প্রবেশাধিকার না পায় সেটি মিত্রদের নিশ্চিত করা উচিত।

ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত থাকবে

রুটে বলেন, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। বুধবার মিত্ররা বহু বছরের প্রতিশ্রুতি নবায়ন করবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখান থেকে ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরে যাব বলে আশা করছি।’

ন্যাটো আঙ্কারা সম্মেলনের ভেতরে

তুরস্কের আয়োজনে সম্মেলনটি মঙ্গলবার শুরু হয়। এতে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের নেতা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকজন অংশীদার এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ অন্যান্য অতিথি অংশ নেন।

প্রথম দিনে ন্যাটো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরাম ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে রুটে জোটের নতুন প্রকল্পগুলো ঘোষণা করেন। বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি মহাকাশ, নজরদারি, হামলার সক্ষমতা এবং সমন্বিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার নতুন উদ্যোগে যুক্ত হয়। এই ফোরামে জেলেনস্কি, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট চেভদেত ইলমাজ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলেরও বক্তব্য দেন।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান মঙ্গলবার ট্রাম্পসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (সিএএটিএসএ)’ আইনের অধীনে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হতে পারে। এরদোয়ান জানান, তুরস্কের এফ-৩৫ স্ট্যাটাসের বিষয়ে নেতাদের সম্মেলন থেকে অনুকূল সিদ্ধান্ত পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

এরদোয়ান আলাদাভাবে ফিনিশ প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টুব ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গেও বৈঠক করেন। তিনি ও ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান সফররত নেতা ও তাদের সঙ্গীদের জন্য প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সে নৈশভোজ ও অভ্যর্থনার আয়োজন করেন। এতে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এবং এপি৪ অংশীদার অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এএম