ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’, ট্রাম্পের ঘোষণা

ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিদেশে এখন
1

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ (বুধবার, ৭ জুলাই) তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর সামরিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাতভর দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির পর ট্রাম্পের এমন ঘোষণা এলো। সিএনবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটা শেষ। আমি আর তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না। আমার দিক থেকে বলতে গেলে, এটা শেষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদল একটি শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তিনি এখন মনে করছেন ইরানি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ‘‘সময়ের অপচয়’’।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরকে দোষারোপ করছে। গতকাল (মঙ্গলবার, ৬ জুলাই) হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে ‘ধারাবাহিক শক্তিশালী হামলা’ চালায়। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানকে দেয়া তেল বিক্রির অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করে নেয়।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার দর ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭৮ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৪ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়ায়।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মার্কিন বাহিনী ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযানেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। সেন্টকম আরও জানায়, ‘আন্তর্জাতিক জলপথে সাধারণ নাগরিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিপরীতে ভারী মূল্য পরিশোধের জন্য এই হামলা চালানো হয়েছে।’

আজ (বুধবার, ৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দ্বিধা করবে না।’

গত মাসেও প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার একই ধরনের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছিল। তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। যুদ্ধ শুরুর পর এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এএম