সর্বশেষ হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি গতকাল ইরানের জাহাজে বোমা হামলার প্রতিশোধ। যদি এটি আবার ঘটে, তাহলে অবস্থা আরও অনেক খারাপ হবে।’
মার্কিন হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের পাল্টা হামলার কথা জানিয়েছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণ হয়েছে, কুয়েত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং কাতার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘এখনো শেখেনি যে জবরদস্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আর মূল্যহীন নয়।’ তিনি লিখেছেন, ‘সোজা কথায় বলি, যদি আপনি আঘাত করেন, তাহলে জবাব পাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন হুমকিতে’ নয়, ‘ইরানের ব্যবস্থাপনায়’ হরমুজ প্রণালি খুলবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকিতে ফেলার তেহরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে’ এই হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক ক্রুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অন্যায় আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করছে।’
ইরানি উপকূলের অন্যান্য অংশ যেমন কোনারাক ও চাবাহার শহরেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসে আটটি বিস্ফোরণ হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক ও জাসক বন্দরে দুটি করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এছাড়া দুটি গোলা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিরোধপূর্ণ আবু মুসা দ্বীপে আঘাত হেনেছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসে বিমানপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
মার্কিন হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তবে ইরানি গণমাধ্যম চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বুশেহরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি ব্যারাকে আগুন লাগার কথা জানিয়েছে। ইরানের ছাত্র সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চাবাহারের তিনটি বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে দুটি দ্রুত চালু করা হয়েছে এবং তৃতীয়টিও শিগগিরই সচল হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘কিছুক্ষণ আগে ফোন করেছিল’ এবং ‘যেকোনো মূল্যে’ চুক্তি করতে চায়। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না তারা চুক্তি করার যোগ্য কি না। আমি জানি না তারা চুক্তি রক্ষা করবে কি না। এটাই সমস্যা।’
মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকারে হামলার জবাবে তারা ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে। ১৭ জুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত মাসে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে বুধবার মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘গত রাতে তাদের খুব জোরালোভাবে আঘাত করেছে’ এবং ‘সম্ভবত আজ রাতেও তাদের জোরালোভাবে আঘাত করবে।’ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আর তাদের সঙ্গে কোনো লেনদেনে যেতে চাই না। তারা জঘন্য। জঘন্য বলতে কী বোঝায় জানেন? তারা জঘন্য। তারা অসুস্থ মানুষ।’ জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা অশ্লীলতার জবাব অশ্লীলতা দিয়ে দিই না, বরং কাজ দিয়ে দিই—নির্ভয়ে ও দারুণ সাহসিকতার সঙ্গে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া চুক্তিতে ১৪টি বিষয় ছিল। এর মধ্যে ছিল ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, এই সময়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। যদিও আলোচনার ৬০ দিনের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, তারপরও ট্রাম্প আরও আলোচনাকে ‘সময়ের অপচয়’ হিসেবে দেখছেন।
এমওইউ সইয়ের পর এটিই প্রথম হামলা নয়। হরমুজ প্রণালিতে ২৬ জুন একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানি গোলা আঘাত হানার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছিল। এরপর ২৭ জুন একটি ট্যাংকারে হামলার পর আরও মার্কিন হামলা হয়েছিল। পরে গত মাসের শেষে উভয় পক্ষ ‘পিছিয়ে যাওয়ার’ ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল।





