আহত সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে প্রতিদিনই বাড়ছে যোগাযোগ: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
বিদেশে এখন
0

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ (মঙ্গলবার, ২১ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে তিনি এ কথা বলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরান যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় আহত হন তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি মুজতবা খামেনি। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার স্বাস্থ্য নিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা জল্পনার মধ্যেই প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এলো।

ভিডিও ক্লিপে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের প্রিয় সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে এবং তা আরও বাড়ানো উচিত। এতে তার দিকনির্দেশনায় আমরা আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবো।’

গত এপ্রিলে মুজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় তিনি মুখে ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। এরপর ৮ মার্চ একটি ধর্মীয় পরিষদ তাকে ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে তিনি বেশ কিছু লিখিত বিবৃতি দিলেও কোনো নতুন ছবি বা কণ্ঠের রেকর্ডিং প্রকাশ করা হয়নি।

জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো জুলাই মাসে রয়টার্সকে জানায়, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় তার কোনো ছবি বা কণ্ঠের রেকর্ডিং প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রথম দফা হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। উল্লেখ্য, দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলাকালেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

সূত্র জানায়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সমর্থনেই মুজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার পদে অভিষিক্ত হয়েছেন। কট্টরপন্থী কর্মসূচির নির্ভরযোগ্য অভিভাবক হিসেবে তাকে দেখে আইআরজিসি। যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এই বাহিনীর ক্রমবর্ধমান আধিপত্য দেশটির আরও আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ কঠোর দমননীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ইরানের নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এপ্রিলে রয়টার্সকে জানিয়েছিল।

এএম