এআই প্রতিযোগিতায় জোর টেক্কা দিতে চীনে দ্রুত গতিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ, ওয়াশিংটনের চিন্তা বাড়াচ্ছে

চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার বিস্তীর্ণ সমতলে গড়ে উঠেছে ডেটা সেন্টারের স্যাটেলাইট ইমেজ
বিদেশে এখন
তথ্য-প্রযুক্তি
0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে দেশজুড়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিশালাকার সব ডেটা সেন্টার গড়ে তুলছে চীন। ইনার মঙ্গোলিয়ার প্রত্যন্ত আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে শুরু করে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে বিস্তৃত এসব অবকাঠামো আগামী দিনে চীনা এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

চীনের ‘আলুর রাজধানী’ খ্যাত উলানছাব অঞ্চলে কৃষি জমির পাশাপাশি এখন ঝুলন্ত ক্রেন ও হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সহায়তায় তৈরি হচ্ছে একের পর এক ডেটা সেন্টার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির ৯০ শতাংশ শিল্প ও সমাজব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। এই বিশাল লক্ষ্য বাস্তবায়নে হুয়াওয়ে, বাইটড্যান্স ও ডিপসিকের মতো শীর্ষ প্রযুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ইনার মঙ্গোলিয়া, নিংশিয়া, গানসু ও গুইঝৌ প্রদেশে শত শত ডেটা সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নিরাপত্তা ও এআই প্রযুক্তি অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে উন্নত চিপ বিক্রিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ির পরও চীন ওপেন-সোর্স এআই মডেল বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিশ্চিত করছে। এতে বিশ্বের অন্যান্য দেশ সহজেই চীনা মডেল ব্যবহার ও পরিবর্তন করতে পারছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর গোপন কোডে তৈরি ক্লোজড-মডেল ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখছে। এআই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যে এআই প্রতিযোগিতায় জিতবে, শেষ পর্যন্ত সেই বিজয়ী হবে।’

প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর পাশাপাশি এই খাতে মেধাবী জনবলও ধরে রাখছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কড়াকড়ি এবং দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনায় অনেক চীনা বিজ্ঞানী ও গবেষক এখন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে দেশে ফিরে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। বর্তমানে চীন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (স্টেম) গ্রাজুয়েট বের হচ্ছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।

তবে বিশাল প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবেশগত ও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। ইনার মঙ্গোলিয়ার মতো শুষ্ক অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট এবং জাতীয় গ্রিডে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর আংশিক নির্ভরতা বেইজিংয়ের পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এ ছাড়া ডেটা সেন্টারের কারণে কিছু এলাকায় জমি অধিগ্রহণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্থানান্তরের খবরও উঠে এসেছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সত্ত্বেও সেখানকার অনেক প্রবীণ ও সাধারণ কৃষক মনে করছেন, বিশাল এই বিগ ডেটা ও এআই অবকাঠামো তাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারছে না।

এএম