নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘বেসামরিক পরমাণু চুক্তিটি অনুমোদিত হবে, তবে এটি পুরোপুরি সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়ার ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই চুক্তির আওতায় কোনোভাবেই পরমাণু পদার্থের সমৃদ্ধকরণ করা যাবে না এবং এটি কেবল অসামরিক কাজেই ব্যবহৃত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের মতো অস্থিতিশীল অঞ্চলে এ ধরনের চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন। সৌদি আরবও এর আগে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছিল, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে না।
২০২০ সালে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের’ মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। পরে সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তানও এতে যুক্ত হয়। ট্রাম্পের সর্বশেষ এই শর্ত নিয়ে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ এই চুক্তিকে ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের পরমাণু জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
সৌদি আরবের প্রভাবশালী শাসক ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তার দেশ পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না। তবে ইরান যদি পরমাণু বোমা তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও কালক্ষেপণ না করে সেই পথে হাঁটবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আগে খবর বেরিয়েছিল যে এই চুক্তির মাধ্যমে রিয়াদ ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পেতে পারে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে সেই সম্ভাবনা নাকচ হয়ে গেছে।
চুক্তিটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। কংগ্রেসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিরোধীরা এটি আটকে দিতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।





