আলোচনার জন্য ইরান সংঘাত বিরতিতে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ
বিদেশে এখন
0

ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে চলমান আলোচনাকে ‘কিছুটা সময়’ দিতে চান তিনি। গতকাল (রোববার, ২৬ জুলাই) জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এ তথ্য জানিয়েছেন। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

টানা ১৩ দিন ব্যাপক বিমান হামলার পর গত সপ্তাহান্তে ইরানে বোমাবর্ষণ স্থগিত রাখে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর আগে ট্রাম্প আরও আগ্রাসী হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানেও ইরানের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তবে এর আগের দিনই তিনি ‘অ্যাক্সিওস’-কে জানিয়েছিলেন, তিনি আগের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী হামলার কথা ভাবছেন এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি রয়েছেন।

গতকাল (রোববার, ২৬ জুলাই) এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওয়াল্টজকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র কি তবে হামলা বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মোটেও তেমন কিছু বলব না।’ তিনি স্পষ্ট করেন, ট্রাম্প সব পথই খোলা রেখেছেন। ওয়াল্টজ জানান, কারিগরি পর্যায় থেকে শুরু করে দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার আশঙ্কায় এই হামলা স্থগিত করা হয়েছে এমন খবর নাকচ করে দিয়েছেন ওয়াল্টজ। তিনি দাবি করেন, এই অভিযান কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে সব ধরনের সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। তবে পেন্টাগনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা একান্তে স্বীকার করেছেন যে চীন ও রাশিয়াকে মোকাবিলায় এবং ফুরিয়ে আসা গোলাবারুদ নতুন করে সংগ্রহ করতে বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন।

ওয়াল্টজ আরও জানান, আলোচনার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি। দেশটির এক পক্ষ সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকলেও অন্য পক্ষ ভিন্ন পথে হাঁটতে চায়। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরানের উচিত প্রেসিডেন্টকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া। মার্কিন সামরিক বাহিনী সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং এই অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম আরও বাড়ানো হয়েছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা স্থগিত থাকলেও লোহিত সাগরে নতুন অস্থিরতায় সংঘাতের পরিধি বাড়ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর ইয়ানবু ও জাজান শহরের তেল স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এমনিতেই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটে রয়েছে, এর মধ্যে হুথিদের এই হামলা চাপ আরও বাড়িয়ে দিলো।

গতকাল (রোববার, ২৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি মাইন বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, শনিবার ক্যাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন।

এর আগে শনিবার টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ক্যাস্পিয়ান সাগরসহ রুশ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে দূরপাল্লার হামলায় তারা ‘ভালো ফল’ পেয়েছেন। তিনি জানান, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল একটি যুদ্ধজাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী নৌযান। এই হামলার প্রতিবাদে রোববার তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে ইরান।

এএম