বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে চুক্তি আসন্ন বলে জানালেও, তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি বাণিজ্যপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ তারা কখনোই মেনে নেবেন না। প্রণালির ওপর তেহরানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা এই যুদ্ধ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে। যুদ্ধ শুরুর আগে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই সব জাহাজের জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত ছিল।
প্রণালির উত্তর ও দক্ষিণাংশের নিয়ন্ত্রণ থাকা ইরান ও ওমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালাচ্ছে। ইরান এই আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র কথা জানিয়েছে। দেশটির দাবি, প্রণালির উভয় দিক দিয়েই জাহাজ চলাচল ইরানের জলসীমা দিয়ে হবে। এদিকে পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে তারা এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানবে।
উপসাগরীয় একটি সূত্র জানায়, ‘ইরানের সতর্কবার্তা ছিল সুস্পষ্ট—আমেরিকা যদি ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে, তবে তারাও উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনা এবং আঞ্চলিক অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাবে।’ ইতিমধ্যে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ওয়াশিংটনের মিত্রদের ওপর হামলা শুরু করেছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া প্রণালি পার হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতেও তারা আঘাত হানছে। লাস ভেগাসের একটি সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চুক্তিটাই বেশি পছন্দ করব, কারণ আমি মানুষ মারতে চাই না। কিন্তু এক পর্যায়ে হয়তো আমাদের সেটাই করতে হবে।’ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি মৃত্যুর খবর দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৮ জন সেনার মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তিটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সূত্রগুলো ট্রাম্পের ‘চুক্তি আসন্ন’ বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেছে। জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের পণ্যমূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ মাশুল দাবি করছে ইরান। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ মাশুলের প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটন কোনো মাশুলই দিতে চাইছে না।
জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানায়, খসড়া চুক্তিতে প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি রয়েছে। তবে বিপরীত দিকে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর ইরানের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে মূল বিরোধ রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আসা-যাওয়া উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের জলসীমা দিয়ে যাবে। ওমানের সঙ্গে আলোচনায় মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গত জুনের মাঝামাঝি ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকে ফিরে আসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত—এমন বার্তা তেহরান পেয়েছে। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান দ্রুত বন্ধের কথা বলা ছিল, যা প্রণালি খুলে দেয়ার পূর্বশর্ত। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে’র মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শেষ হবে। কিন্তু নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের বিরোধিতার মুখে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে চাপে রয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করে ফেলেছে।





