‘ইরানের কট্টরপন্থিরাই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে’—জেডি ভ্যান্স

জেডি ভ্যান্স
বিদেশে এখন
0

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—সব ধরনের কৌশলই ব্যবহার করা হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দেন।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভ্যান্স দুটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এক নম্বর কারণ, ইরানিরা অসম্ভব রকমের কঠিন মানুষ। দুই নম্বর কারণ, তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি বিভক্ত। তাদের ব্যবস্থার মধ্যেই কিছু মানুষ আছেন, যারা যুদ্ধ শেষ চান। আবার কিছু কট্টরপন্থিও আছেন, যারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান।’ ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমাদের কাজ হলো এই জটিলতা পেরিয়ে মার্কিন জনগণ এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বোত্তম ফলাফল বের করে আনা।’

সংঘাত মিটমাটের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, ‘বিষয়টি জটিল হবে এবং সময়ও লাগবে, তবে আমরা সমাধানে পৌঁছাব।’ তিনি আরও দাবি করেন, তেলের দাম আবার কমবে এবং তা কম থাকবে। ভ্যান্স বলেন, ‘ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। এই সংঘাতকে সঠিক পথে সমাধান করতে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের কৌশলই ব্যবহার করা হবে।’

সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান সামরিক উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতার মধ্যেই এই বক্তব্য দিলেন ভ্যান্স। এর আগে বুধবার লাস ভেগাসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে চুক্তিতে যেতেই বেশি আগ্রহী। কারণ, আমি মানুষ মারতে চাই না।’ তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগের বিকল্প খোলা রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি কাঠামোগত চুক্তি সই করে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই আলোচনা থমকে যায়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে সরাসরি হামলা চালালে উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পায়। এর জবাবে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও যন্ত্রপাতিতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।

এএম